Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্রিস্পিনের জাদুতে পুনর্জন্ম জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের

ক্রিস্পিনের জাদুতে পুনর্জন্ম জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত  শিলিগুড়ি

Advertisement

কার্শিয়াংয়ের ছেলে ক্রিস্পিন ছেত্রীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতীয় মহিলা ফুটবল। এএফসি কাপের যোগ্যতা নির্ণয় পর্বে দূরন্ত পারফরম্যান্স করে এবারই প্রথম এই প্রতিযোগিতার মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ভারত। 
ক্রিস্পিনের ছোঁয়ায় যোগ্যতা নির্ণয় পর্বে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে ঐতিহাসিক জয় এসেছে ভারতের। তার আগে মঙ্গোলিয়াকেও ১৩-০ গোলে পরাজিত করেন ভারতীয় মহিলারা। অন্যান্য ম্যাচেও বিজয় রথ ছুটেছে। যার সুবাদে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল প্রথমবার এএফসি কাপের মূলপর্বে খেলবে আগামী বছর।  
ক্রিস্পিন ছুটি কাটাতে বাড়িতে এসেছেন। আবার ২৬ জুলাই ফিরে যাবেন দিল্লি। কার্শিয়াংয়ের এই কৃতী ফুটবল কোচ শিলিগুড়িতে ক্লাব ফুটবলে চুটিয়ে খেলেছেন। মোহন বাগান, টালিগঞ্জ অগ্রগামী এবং ইউনাইটেড এফসি ক্লাবের হয়েও সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। অসমের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে আত্মপ্রকাশ হলেও পরে ক্রিস্পিন বাংলা, মহারাষ্ট্র ও সিকিমের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ এর ভারতীয় দলেও খেলেছেন তিনি। 
ফুটবল ছাড়ার পর কোচ হওয়ার স্বপ্ন তাঁর বহুদিনের। সেই মতো প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ক্রিস্পিন বলেন, জাতীয় দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন ছিল। তাই প্রথমে কলকাতায় স্পোর্টস মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। তারপর কোচিং লাইসেন্স শেষ করে পেশাদার কোচিংয়ে। 
ক্রিস্পিনের কথায়, ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের এই সাফল্যে দলের প্রত্যেকটি সাপোর্টিং স্টাফের সমান কৃতিত্ব রয়েছে। আমি শুধু মেয়েদের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব, হার না মানা মনোভাব তৈরি করেছি। বুঝিয়েছি কীভাবে ডিফেন্সিভ মানসিকতা ছেড়ে জয়ের জন্য প্রতিপক্ষকে সারাক্ষণ চেপে ধরতে হবে।  আমরাও জিততে পারি। তার জন্য গোল করতে হবে। মেয়েরা এই দিকগুলি সঠিকভাবে রপ্ত করে প্রয়োগ করেছে। এছাড়া কিছু ট্যাকটিক্যাল মুভ অবশ্যই ছিল। 
আগামী বছর এএফসি কাপে ভারতীয় মহিলা ফুটবলের ভালো ফলের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। একঝাঁক জুনিয়র খেলোয়াড়কে দলে জায়গাও দিয়েছেন। মহিলা ফুটবলে বাংলার সুদিন ফেরার ব্যাপারেও সমান আশাবাদী ক্রিস্পিন। তাঁর মন্তব্য, এই মুহূর্তে বাংলায় মহিলা ফুটবলে অনেক প্রতিভা রয়েছে। চারজন জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। আগামী দিনে এখান থেকে আরও অনেক ফুটবলার উঠে আসবেন। বিগত বছরগুলিতে তৃণমূল স্তরে একটা শূন্যতা তৈরি হওয়ার কারণেই বাংলা এবং ভারতের মহিলা ফুটবল কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। জুনিয়ররা যেভাবে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য উজাড় করে দিচ্ছেন, তাতে আবার সাফল্য আসবে। - ক্রিস্পিন ছেত্রী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ