Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উনসানিতে তৈরি হচ্ছে জাতীয় পতাকা, রাত জেগে কাজ করছেন হিন্দু-মুসলমান

প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস এলে হাওড়ার উনসানি হালদারপাড়ায় তুঙ্গে ওঠে ব্যস্ততা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই পাড়ায় জাতীয় পতাকা তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিল।

উনসানিতে তৈরি হচ্ছে জাতীয় পতাকা,  রাত জেগে কাজ করছেন হিন্দু-মুসলমান
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস এলে হাওড়ার উনসানি হালদারপাড়ায় তুঙ্গে ওঠে ব্যস্ততা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই পাড়ায় জাতীয় পতাকা তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিল। বেশ কয়েক ঘর মুসলমান এই কাজ শুরু করেছিলেন। এখন সেই মুসলমান ঘরগুলিতে পতাকা তৈরি করতে আসেন হিন্দু কারিগররা। তাঁদের তৈরি পতাকা বিক্রি হয় একাধিক রাজ্যে। এ বছর অপারেশন সিঁদুর এখানকার সবার মুখের হাসি চওড়া করেছে। কারণ এক ধাক্কায় চাহিদা বেড়ে গিয়েছে দেশের ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকার।

Advertisement

হালদারপাড়াকে অনেকে পতাকাপাড়া বলেন। কারণ এখানে গোটা সাতেক বাড়িতে বছরভর পতাকা তৈরি হয়। রামনবমী থেকে ঈদ, স্বাধীনতা দিবস কিংবা নির্বাচন, মিটিং, মিছিল ইত্যাদির কারণে সবধরনের পতাকা তৈরি হয়। বছরভর শোনা যায় সেলাই মেশিন চলার শব্দ। প্রজাতন্ত্র দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসের সময় উৎসবের মতো ব্যস্ততা দেখা দেয়। রাজু হালদার, ইমরান হালদাররা এসময় হাঁফ ফেলতে পারেন না। এ রাজ্যই শুধু নয়, আসাম, ত্রিপুরা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসে  জাতীয় পতাকা তৈরির বরাত। ছোট-বড়-মাঝারি বিভিন্ন আকারের হাজার হাজার পতাকা তৈরি হয়। কাজ চলে রাত জেগে। কারখানার মালিক মুসলমান আর কারিগরদের অধিকাংশই হিন্দু। এই কারণে এই পাড়াতে সম্প্রীতির পাড়াও বলে থাকেন অনেকে। সম্প্রীতির এ হেন নজির এখানে চলে আসছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে। রাজু হালদার নামে এক পতাকা কারখানার মালিক বলেন, ‘৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তাঁরা ইদের পতাকা তৈরি করেন। আবার রামনবমীর পতাকাও তৈরি করেন। জাতীয় পতাকা তাঁরাই করেন। এটাই তো সম্প্রীতি। এটাই আমাদের ভারত।’
এবছর স্বাধীনতা দিবসের আগে হালদারপাড়ায় ব্যস্ততা চরমে। ব্যবসা ভালো হচ্ছে বলে গুজরাতের সুরাট এবং স্থানীয় বাজার থেকে কাপড় কিনছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, গত ৩০ বছরে এত পরিমাণ জাতীয় পতাকার অর্ডার আসেনি। ইমরান হালদার নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার এত অর্ডার এসেছে যে কাজের জন্য কারিগর পাওয়া যাচ্ছে না। রাত জেগে কাজ চলছে। তবে কষ্ট হলেও বলব, দেশের পতাকা তৈরি করার গর্বই আলাদা।’ এ কাজে হাত লাগিয়েছে ইমরানের তিন বছরের মেয়েও। সে পতাকার প্যাকেটে স্টিকার আটকেছে বলে দাবি করেছে। - নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ