সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বাংলাদেশি নিউটন দাসের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এবার সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর এরপরই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। তারা এখন পুরো বিষয়টি সরজমিনে খতিয়ে দেখছে। বুধবার বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) নিউটনের দাদা তপন দাসের কাকদ্বীপের দাসপাড়ার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেন। নিউটন কবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন এবং কীভাবে এদেশের ভোটার কার্ড তৈরি করলেন, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এমনকী তাঁর পরিবারের কতজন বাংলাদেশে থাকেন। তপন দাস কবে ভারতে এসেছেন, সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসন প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, নিউটন ভোটার কার্ড নিয়ে যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০১৭ সালে তাঁর ভোটার কার্ড হারিয়ে যায়নি, বরং তিনি বাড়ির ঠিকানা পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু কীভাবে তিনি ভোটার কার্ড তৈরি করলেন? কার কার নথি জমা দিয়েছিলেন? কার্ড তৈরি করার জন্য কারা কারা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন? এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনও আধিকারিক যুক্ত আছেন কি? বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য কাকদ্বীপ ব্লক ও মহকুমা প্রশাসন নিউটনের সব নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগ্রহ করা সব নথিপত্র নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শারদোৎসবের পর ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় সার্ভে করা হবে। সেই সময় যদি নিউটন বাড়িতে না থাকেন, তাহলে তাঁর ভোটার কার্ড বাতিল করা হবে।
উল্লেখ্য, নিউটন এক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে ভোটার আইডি কার্ড বানিয়েছিলেন। এরপর বেশ কয়েক বছর এখানে বসবাস করেছেন। এমনকী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু পরে তিনি ফের বাংলাদেশে ফিরে যান। সেখানে তাঁকে বাংলাদেশের কোটা আন্দোলনে অংশ নিতেও দেখা যায়। পুরো বিষয়টি নিয়েই বিরোধীরা বিভিন্ন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।