Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে নোটিস জাতীয় তফসিলি জাতীয় কমিশনের

বিশ্বভারতীর এসসি সংরক্ষিত ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ফের কড়া পদক্ষেপ জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের

ফের বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে নোটিস জাতীয় তফসিলি জাতীয় কমিশনের
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর : বিশ্বভারতীর এসসি সংরক্ষিত ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ফের কড়া পদক্ষেপ জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের। ২০ আগস্টের শুনানিতে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ থাকলেও হাজির হননি বিশ্বভারতীর উপাচার্য। এরপর তাঁকে পরবর্তী শুনানিতে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়ে বিশ্বভারতীকে ফের নোটিস পাঠায় কমিশন। তবে সেই নোটিসে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। এবার বৃহস্পতিবার ফের নোটিস পাঠিয়ে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় দিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তরে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হল উপাচার্যকে। এ বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, মহামান্য কমিশন যে নির্দেশ দেবে, বিশ্বভারতী তা পালন করবে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই নোটিসে উপাচার্যকে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি, রেকর্ড এবং কমিশনের আগের নির্দেশের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার রিপোর্ট নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। কমিশনের সদস্য পার্থ বিশ্বাসের সামনে এই শুনানি হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী লিটন বিশ্বাসকেও শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিসে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতের মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তলব করা এবং প্রয়োজনীয় নথি চেয়ে পাঠাতে পারে কমিশন। নোটিসের প্রতিলিপি অভিযোগকারী লিটন বিশ্বাসকেও পাঠানো হয়েছে।
আরও জানা গেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বভারতীর ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ নিয়ে। গত বছর ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, স্টেট অফিসার, লাইব্রেরিয়ান সহ একাধিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্বভারতী। লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। জুনে হয় ইন্টারভিউ। এরপরই ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা লিটন বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের জন্য অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্ত এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া যায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনে অভিযোগ করেন তিনি। কমিশনের নোটিস অনুযায়ী, অভিযোগটি নিয়ে ৩০ জুন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না মেলায় ফের চিঠি পাঠায় কমিশন। অভিযোগটি কমিশনের বিবেচনায় থাকা অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে এগোল, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এদিকে, সম্প্রতি বিশ্বভারতীতে সাংবাদিক বৈঠকে এই শুনানি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, যে যোগ্য নন, তাঁকে নেওয়া হয়নি। তাই অভিযোগ করেছে। এগুলি চলতেই থাকবে। তবে আগামী শুনানিতে তিনি সশরীরে হাজির হবেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ