Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে ‘র’য়ের এজেন্টই খড়দহে নাসার বিজ্ঞানী! জেরায় স্বীকার ধৃত প্রেমিকের

দুর্গাপুরে ‘র’য়ের এজেন্টই খড়দহে নাসার বিজ্ঞানী! জেরায় স্বীকার ধৃত প্রেমিকের
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’য়ের (র) এজেন্ট পরিচয়ে দুর্গাপুরের এক শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেম ও সহবাসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে অভিষেক মুখোপাধ্যায়। শুধু দুর্গাপুরেই নয়, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে খড়দহের এক যুবতীকেও প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে টাকা জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে অভিষেক নিজেকে নাসার বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দেয়। খড়দহের প্রেমিকার পরিবারের তো হাতে চাঁদ পাওয়ার দশা। ‘হবু জামাই’ শুধু নাসার বিজ্ঞানীই নয়, সে নাকি মঙ্গল অভিযানেও যাবে! মহাকাশযানে চেপে মঙ্গলগ্রহে গিয়ে মাটি পরীক্ষা করবে। এই গল্প শুনিয়ে অভিষেক খড়দহের প্রেমিকা ও তাঁর মায়ের কাছ থেকে ছ’লক্ষ টাকা হাতায়। খড়দহ থানায় এমনই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দুর্গাপুর থানার পুলিস অভিষেককে নিয়ে তদন্তে নামতেই এই বিষয়টি সামনে এসেছে। ইংরেজি, বাংলা ও হিন্দি তিনটি ভাষাতেই অনর্গল কথা বলার ক্ষমতা রয়েছে স্মার্ট যুবক অভিষেকের। নিজের এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের বাইরের মেয়েদের সঙ্গেও সে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। দুর্গাপুর থানার পুলিস জানতে পেরেছে, দিল্লিতেও তার একজন স্ত্রী রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, অভিষেক তাঁকেও প্রতারণা করে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধু তিনজন নয়, আরও অনেক মেয়েকেই প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে টাকা লুট করেছে সে। পুলিসের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, মহিলাদের বিভিন্ন ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেছে অভিষেক। দুর্গাপুরের শিক্ষিকাকে রেজিস্ট্রি ম্যারেজের যে শংসাপত্রটি দিয়েছিল, সেটিও নকল। তদন্তে সবদিক‌ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

গত নভেম্বর মাস থেকেই একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দুর্গাপুরের এক শিক্ষিকাকে নিজের কথার জালে ফাঁসায় অভিষেক। কখনও নিজেকে ‘র’ অফিসার, কখনও আবার এনআইএ আধিকারিক পরিচয় দিয়েছে। নীলবাতি গাড়িতে ছিল তার অবাধ যাতায়াত। ওই শিক্ষিকার বাবা, মা পুলিসের দ্বারস্থ হতেই ভুয়ো অফিসারের পর্দাফাঁস হয়েছে। এখন সে দুর্গাপুর থানার পুলিসের হেফাজতে রয়েছে। তাকে হেফাজতে পেয়ে অভিযুক্তের একের পর এক কুকীর্তির পর্দাফাঁস করছে পুলিস। পুলিস জানতে পারে, অভিযুক্তের নামে খড়দা থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পুলিস জানতে পারে, অভিষেক দুর্গাপুরের আদলেই সেখানে প্রতারণা করেছে। ওখানে নিজেকে বড় মহাকাশ বিজ্ঞানী পরিচয় দিয়েছে। সে দুর্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ছিল। হোটেলের লক্ষাধিক টাকার বিল সে ওই শিক্ষিকার কাছ থেকেই আদায় করে। অভিষেক খড়দহে সরাসরি নগদ টাকার প্রতারণা করেছিল। মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন। এই ছুতোয় সে ছ’লক্ষ টাকা নিয়েছিল। তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মঙ্গল অভিযানে যাওয়ার সময় সে প্রেমিকা ও তাঁর মাকে আমেরিকায় নিয়ে যাবে। আমেরিকার সরকারই তাঁদের দেখভাল করবে।
পুলিস জানতে পেরেছে, একসময়ে সম্পর্ক নিয়ে বাবা-মা’র প্রবল আপত্তি তোলায় দুর্গাপুরের ওই শিক্ষিকা অভিষেককে বিয়ে সেরে নেওয়ার কথা বলেন। ভুয়ো প্রেমিক ওই শিক্ষিকাকে রেজিস্ট্রি ম্যারেজের যে সার্টিফিকেট দিয়েছিল, তাও নকল। পুলিস একদিকে অভিষেকের প্রতারিত প্রেমিকাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতারণার পুরো কাজটি করতে তাকে কে বা কারা সাহায্য করেছিল, তাও খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ