Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মঙ্গলে বাসস্থানের ডিজাইন! প্রিয়াঙ্কায় উচ্ছ্বসিত নাসা

একটি অর্ধস্বচ্ছ ইগলু আকৃতির ঘর। বাইরে উড়ে বেড়াচ্ছে রংবেরঙের অনেক প্রজাপতি।

মঙ্গলে বাসস্থানের ডিজাইন! প্রিয়াঙ্কায় উচ্ছ্বসিত নাসা
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একটি অর্ধস্বচ্ছ ইগলু আকৃতির ঘর। বাইরে উড়ে বেড়াচ্ছে রংবেরঙের অনেক প্রজাপতি। ঘরের উপর পতাকার মতো উড়ছে ভালবাসার প্রতীক। অদ্ভুত আকৃতির দরজা। তার বাইরেও ফুলের ডিজাইন তোলা। কোনও ঘর আবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। কার্টুনে দেখা ফ্লাইং সসারের মতো। কোনওটি আবার পৃথিবীর সবুজ অরণ্য আর সুনীল জলরাশির প্রতীকী রঙে ঢাকা। এসব আসলে আমাদের পৃথিবীর কোনও ঘরবাড়ি নয়! মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যতের বাসস্থান! কাল্পনিক মনে হচ্ছে? সত্যিই কাল্পনিক। কিন্তু এই কল্পনাই পেয়েছে নাসা’র অকুণ্ঠ প্রশংসা। এই কল্পনা হুগলির দাদপুর- বাদিনানের ডিজাইনার প্রিয়াঙ্কা মালিকের। সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যতের বাসস্থান নিয়ে কাল্পনিক ডিজাইন করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র প্রশংসা ও স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গকন্যা। তাঁর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হুগলিবাসী। হইচই পড়ে গিয়েছে নেট-নাগরিক মহলেও। 

Advertisement

কাল্পনিক এই ডিজাইনের নাম দিতে গিয়ে নিজের নামের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য রেখেছেন প্রিয়াঙ্কা। সেই সঙ্গে বর্তমানের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বকে দিতে চেয়েছেন ভালোবাসার বার্তা। তাই ডিজাইনের নাম রেখেছেন ‘সাসরিয়াঙ্কা—দি ইটারনাল লাভ হোম’। শাশ্বত ভালোবাসার ঘর। নাসা’র ‘জেট প্রপালসান ল্যাবরেটরি’ (জেপিএল) কর্তৃপক্ষ মেল পাঠিয়ে প্রিয়াঙ্কার ভাবনার প্রশংসা করে লিখেছে, ‘এই ডিজাইনে প্রযুক্তি ও আবেগের অনবদ্য মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে। প্রতিফলিত হয়েছে মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, আশা ও শাশ্বত ভালোবাসা।’ বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থার এহেন প্রশস্তি বাক্যে উৎফুল্ল প্রিয়াঙ্কা। যদিও আন্তর্জাতিক সম্মান বা প্রশংসা তাঁর কাছে নতুন নয়। কয়েকবছর আগে ব্রিটেনের রাজা চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁর নৈশভোজের পোশাকের অংশবিশেষ ডিজাইন করেছিলেন তিনি। চার্লসের স্ত্রী ক্যামিলার পোশাকের একটি ব্রোচ ডিজাইনও করেছিলেন। বাকিংহাম প্যালেস সেই ব্রোচ ডিজাইন গ্রহণ করে স্বীকৃতিও দিয়েছিল প্রিয়াঙ্কাকে। এবার নাসা তাঁর মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ আবাস নিয়ে ডিজাইনের প্রশংসা করার পর বাকিংহাম প্যালেসও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘নাসা’র শংসাপত্র পাওয়ার খবর বাকিংহাম প্যালেসকে জানিয়েছিলাম। সেখান থেকেও শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে। নাসা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মহাকাশ প্রকল্পে আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। সেই প্রস্তাব আমার কাছে খুবই ইতিবাচক মনে হয়েছে। একদিকে নাসা’র মতো সংস্থা, অন্যদিকে ভিন গ্রহে বসবাস—দু’টোই আমার কাছে স্বপ্ন। এখনও ভাবলে চমকিত হচ্ছি।’ 
ছবি আঁকার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিলই। তারপরে পোশাক ডিজাইন নিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। অনলাইনে একাধিক খ্যাতনামা সংস্থা থেকে পোশাক ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। একাধিক মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত মিশনে নানা রকমের ডিজাইন করে পাঠিয়েছেন অতীতেও। সেই সুবাদেই প্রিয়াঙ্কা জানতে পেরেছিলেন, নাসা’র জেপিএল ভবিষ্যৎ মার্স মিশনের জন্য নাগরিক কলোনির ডিজাইন চেয়েছে। সেই মতো ডিজাইন পেশ করেন প্রিয়াঙ্কা। তার কয়েকদিন পর সাতসাগর পারের মহাকাশ সংস্থা থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত ই-মেল এসে পৌঁছয় তাঁর কাছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ