Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

নরেন্দ্র মোদির গৌরব ও অগৌরব

নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনে গৌরব ও অগৌরবের চিত্র। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে বিশ্লেষণ। বিস্তারিত পড়ুন।

নরেন্দ্র মোদির গৌরব ও অগৌরব
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজনীতির ওঠাপড়া, হিমাংশু সিংহ: টানা ১২ বছর ক্ষমতায়, ম্লান নেহরুর রেকর্ডও। নরেন্দ্র মোদির গৌরব আকাশ ছুঁয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি তাঁর এই কৃতিত্বে স্বস্তিতে? রুটিরুজির লড়াইয়ে তাঁরা কি একচুলও এগিয়েছেন বিজেপির সর্বগ্রাসী প্রসারের একদশকে। নাকি কলে কারখানায়, চাষের জমিতে, পরিযায়ীদের লড়াই আরও কঠিন হয়েছে। চুক্তির চাকরিতে প্রাপ্য 

Advertisement

আদায়ে খেটেখাওয়াদের জীবন আজ দুর্বিষহ। কৃষি আইন ব্যর্থ হয়ে প্রত্যাহৃত। দেশের সর্বোচ্চ চাকরিদাতা রেল পর্যন্ত যে হারে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে তাতে যেই ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসুক, গরিব মানুষের বেঁচে থাকা আগামী দিনে আরও কঠিন হতে বাধ্য। স্টেশনে স্টেশনে হকার হটিয়ে এখন কর্পোরেট ফেরিওয়ালাদের রমরমা।
রাজনীতির ওঠাপড়া কোনো একটি দলের নির্বাচনি ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে পারে না। মুছে দিতে পারে না বহুত্ববাদের ঐতিহ্য। চারদিকে আজ যতই কাড়া-নাকাড়ার আওয়াজ সপ্তমে চড়ুক কংগ্রেসমুক্ত ভারত যেমন হয়নি, বেকারমুক্ত দেশও হবে না ভবিষ্যতে। এমনকি ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতেও। আঞ্চলিক দলগুলোকে কোণঠাসা করেও সহজে খতম করা যাবে না। গেরুয়া শক্তি মাত্র চল্লিশ দিন আগে শ্যামাপ্রসাদের বাংলা দখল করেছে। নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক মুহূর্ত সংঘপরিবারের কাছে। জাতীয় রাজনীতিতে আরও একটি বিজেপি বিরোধী শক্তি, মায় মমতার তৃণমূল কংগ্রেস গভীর অস্তিত্ব সংকটে। গদি হারিয়ে কোণঠাসা তামিলনাড়ুর ডিএমকেও। আগেই দিল্লি হারিয়ে দুর্বল আপ। এনসিপি ও শিবসেনা আজ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাৎপর্যহীন! অখিলেশের ভবিষ্যৎ ঝুলে আগামী বছরের উত্তরপ্রদেশ ভোটের ফলের উপর। লালু ও  নীতীশ দু’জনেই ক্রমেই ক্ষয়িষ্ণু শক্তি। সব মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোট ছত্রখান হওয়ার মুখে আবারও কংগ্রেস নির্ভর। মমতা পর্যন্ত ছুটছেন সোনিয়ার কাছে। বিগত চব্বিশের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হতে না পারার ধাক্কা কাটিয়ে নরেন্দ্র মোদির সামনে সুসময়ই বটে! প্রধানমন্ত্রিত্বের ১২ বছর পূর্ণ করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, সবচেয়ে বেশিদিন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে টিকে থাকার রেকর্ড স্পর্শ করে তাঁর রথ ছুটছে ঊনত্রিশের সাধারণ নির্বাচনের দিকে। মধ্যিখানে রয়েছে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ এবং মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন সংবিধান সংশোধনী বিল। বিদ্রোহী তৃণমূল ব্লকের ১৯ এবং ডিএমকের ২২ জন এমপির যোগদান লোকসভায় দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবে কি না তা ভবিষ্যৎ-ই বলবে। তবে গত দেড় মাসের অগ্রগতি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক হলেও চ্যালেঞ্জও বড়ো কম নয়। ক্ষোভ বেরোনোর সব মুখ বন্ধ করে দিলে বিস্ফোরণ অনিবার্য পরিণতি।
জওহরলাল নেহরু ৪৩৯৮ দিন। মোদিজি আজকে নিয়ে ৪,৪০৩ দিন পেরিয়েও নটআউট। প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের দাবি, এসআইআরের মতো এটাও বিজেপির ভয়ংকর ম্যানিপুলেশনেরই ফল! নেহরুজি ওই পদে ছিলেন প্রকৃতপক্ষে ১৬ বছর ২৮৬ দিন। ১৯৪৭ থেকে ৫২, প্রথম সাধারণ নির্বাচনের আগের পাঁচ বছরের হিসাব বেমালুম নাকি গায়েব করে দিয়েছে বিজেপি। তাদের ব্যাখ্যা, ওই সময় নেহরুজি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সেই কারণেই প্রথম পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। নেহরু-কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালও একটানা নয়, স্পষ্ট দু’টি ভাগে বিভক্ত।  প্রথম দফায় ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৬ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৭৭ এবং দ্বিতীয় দফায় ১৯৮০ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর বাসভবনে দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার দিন পর্যন্ত। সেই হিসাব সামনে এনেই মোদিজির কৃতিত্বকে ছোটো করে দেখাচ্ছে সোনিয়ার দল। তবে এটাও স্বীকার করতে হবে, নেহরুর আমলে ভারতের রাজনীতি ষোলোআনাই ছিল একমেরুর। জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না ইন্দিরার জরুরি অবস্থা জারির আগে পর্যন্ত। 
স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সংখ্যাও ছিল সীমিত। জরুরি অবস্থার পর থেকেই দেশে দ্রুত বিরোধী রাজনীতির ঢক্কানিনাদ শুরু হলেও বিজেপি মাথা তোলার আগে পর্যন্ত কংগ্রেসকে তুল্যমূল্য চ্যালেঞ্জ জানাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে বিরোধীরা। সাতাত্তরে ইন্দিরাকে হারিয়েও জনতা সরকার পুরো পাঁচ 
বছর স্থায়ী হয়নি। নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হয় ইন্দিরা জমানার। ২০০৪ সালে বাজপেয়ি জমানার নাটকীয় সমাপ্তিও ফের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জমানারই সূচনা করে দশ বছরের জন্য।  
ব্যস, তারপরই জোট সরকারকে বিদায় দিয়ে আবার একদলীয় সরকারের যাত্রা। নরেন্দ্র মোদির গত ১২ বছরের শাসনে দেশে অনেক বদল এসেছে। রাজনৈতিক মানচিত্র বদলেছে। বেকার বেড়েছে, বেকারত্ব রেকর্ড করেছে। স্নাতকদের মাত্র ৭ শতাংশ স্থায়ী চাকরি করে আজ। দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি গরিবের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এক দশক আগের নোট বাতিলের ক্ষত মেরামত হয়নি এখনও। জিএসটি ছোটো ছোটো ব্যবসায়ীর জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে। ১২ বছরে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৪৪ ও ৭৩ শতাংশ। গত একমাসে দফায় দফায় জ্বালানির দামবৃদ্ধি অর্থনীতিকে বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ১ ডলারের মূল্য গতকাল পর্যন্ত ৯৫ টাকা পেরিয়ে ৯৬ টাকার আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। আশঙ্কা, শীঘ্রই তা ১০০ ছাড়াবে। তাহলে দেশজুড়ে নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি ও আরএসএসের এই অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রার পিছনে রসায়নটা কী? সংগঠিতভাবে আরএসএসের নেতৃত্বে বিরোধী শক্তিকে বিনাশ করা কিংবা বিভক্ত করে রাখা? নিঃসন্দেহে স্বাধীনতার পর যেমন কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ করার তেমন কেউ ছিল না, তেমনি অমিত শাহরা একের পর এক বিরোধীকে ভেঙে কিংবা পর্যুদস্ত করে গেরুয়া জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আর ডবল ইঞ্জিন? মণিপুর জ্বলছে, অসমের অর্থনীতি দশ বছর গেরুয়া শাসনের পরও শোচনীয়। ত্রিপুরায় বামেদের উপর বেছে বেছে সন্ত্রাস নামিয়ে আনা ছাড়া আর কোন উন্নয়নটা হয়েছে! ডবল ইঞ্জিনই মুশকিল আসান, এই তত্ত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য?
প্রথমটায় বিজেপির লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে যত দ্রুত সম্ভব বেশি বেশি করে আঞ্চলিক দলের সৃষ্টি করা। লক্ষ্য ছিল একটাই—‘কংগ্রেসমুক্ত ভারত’। আপ, তৃণমূল, এনসিপি, লালুর আরজেডি, নীতীশের সংযুক্ত জনতা দল, আখিলেশদের সমাজবাদী পার্টি, শিবসেনা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মতো দলগুলি এতদিন কংগ্রেসের ভোট ভেঙেই নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করে এসেছে নির্বাচনি রাজনীতিতে। ক্ষমতা দখলও করেছে এক এক-একটি রাজ্যে। বহু রাজ্যেই কংগ্রেসের ভোট কমতে কমতে নেমে গিয়েছে দশ শতাংশের নীচে। কিন্তু চব্বিশের ভোটে ‘অব কি বার চারশো পার’-এর স্লোগান ব্যর্থ হওয়ার পর কৌশল বদলেছে। এবার আঞ্চলিক দলগুলোকেও খতম করতে মরিয়া আরএসএসের থিঙ্ক ট্যাঙ্করা। তৃণমূল, আপ, ডিএমকে, এনসিপি, শিবসেনা, নীতীশ-লালু এবং বাম শক্তি কেউই আজ নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করার অবস্থায় নেই। এই কঠিন সময়ে একমাত্র কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবনই পারে এদেশে গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিকে অটুট রাখতে। 
বাংলায় বিপর্যয়ের পর তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়েছে। পাঞ্জাবে হারলে আপ ছাড়ার স্রোতও গেরুয়ামুখী হবে। অখিলেশ হারলেও তাই। যাঁরা ছাড়ছেন তাঁরা কেউ মানুষের স্বার্থে, উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে দল ছাড়ছেন, অতি বড়ো মূর্খও তা বিশ্বাস করবেন না। এই দলত্যাগ গরিবের স্বার্থে নয়, দেশের জন্যও নয়, স্রেফ পিঠ বাঁচাতে। কেউ কেউ হয়তো অতর্কিতে ছুটে আসা পচা ডিম থেকে বাঁচতে এ পথ বেছে নিয়েছেন, আবার কেউ নিজেদের রাজনৈতিক কেরিয়ার বাঁচাতে। গত ৪ মে দুপুরের পর যাঁরা গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে তৃণমূলের অফিস ভেঙেছে, জোড়াফুল নেতাদের মেরেছে, তারাও কিন্তু দুর্নীতি বন্ধে ওই কাজ করেননি। করেছেন নিজেদের আগমার্কা গেরুয়া প্রমাণ করতে—যাতে অটো চালাতে, রাস্তায় দোকান দিতে, বালি-সিমেন্টের কারবার চালাতে, এগ রোল বেচতে অসুবিধা না-হয়।
‘ভালো তৃণমূল’ না ‘খারাপ তৃণমূল’—তার হিসাব কষছেন কোনজন? ক্ষমতার চারপাশে ঘুরঘুর করার নেশা এতই কড়া যে, ঘর বন্ধ থাকলেও কুছ পরোয়া নেই। দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দিনে-রাতে চলছে বাংলার এমপিদের নরক গুলজার। এটাও নিঃসন্দেহে নরেন্দ্র মোদির সাফল্যের তালিকায় নতুন পালক! অপারেশন লোটাস!
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে টানা ১২ বছর কার্যকাল পূর্ণ করছেন নরেন্দ্র মোদি। এই দীর্ঘ শাসনকালে তাঁর সরকার দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে একাধিক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে দাবি। চোদ্দো সালে দেশে ৭৪টি বিমানবন্দর ছিল। ১২ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ১৬৪। দ্রুত এ শহর থেকে অন্য শহরে যেতে ১৬৪টি দ্রুতগামী বন্দে ভারত ট্রেন চালু হয়েছে। কয়েক লক্ষ কিলোমিটার নতুন জাতীয় সড়ক তৈরি হয়েছে। বিগত ১২ বছরে ভারতের শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল রূপান্তর ঘটেছে। দরিদ্র এবং বঞ্চিতদের কল্যাণ হলে এবং সরকারি অনুদান একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে গেলে মানুষ তাঁকে মনে রাখবে। এই সময়কালে জনধন যোজনার অধীনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটির গণ্ডি পার করেছে বলে সরকারি দাবি। কিন্তু ওই অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা পড়ছে নাকি প্রান্তিক গরিব মানুষ তা ভাড়া দিচ্ছে জঙ্গিদের? সরকারের পক্ষ থেকে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) মাধ্যমে সরাসরি জনগণের অ্যাকাউন্টে মোট ৩৪ লক্ষ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে, যা সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে প্রায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে। কিন্তু মোদিজির ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প উজ্জ্বলা রান্নার গ্যাস যোজনায় বছরে ১২টি সিলিন্ডারের কোটা হঠাৎ কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গরিব বিরোধী। কী করে জনস্বার্থে চলা একটা সরকার একাজ করতে পারল?
বিজেপি বিগত চব্বিশ সালের ভোটে বুঝেছে আঞ্চলিক দলগুলির বাড়বাড়ন্তের জন্যই একক গরিষ্ঠতা হাত ফসকে গিয়েছে। অব কি বার ৪০০ পারের স্লোগান থেমে গিয়েছে মাত্র ২৪০ আসনে। উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম এবং দক্ষিণের সর্বত্র দলের প্রসার হলেও এখন চন্দ্রবাবুর তেলুগু দেশম এবং জেডিইউয়ের ক্রাচে চড়েই চলছে সরকার। এত সাফল্যের মধ্যেও নরেন্দ্র মোদির জীবনে এটাই সবচেয়ে বড়ো কাঁটা। সারা গায়ে গৌরবের আতর মেখে ঊনত্রিশের সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি একক গরিষ্ঠতা পেলে তবেই দেশের মানুষ জিন্দাবাদ ধ্বনি দেবে, না-হলে অগৌরবের যাত্রা শুরু হতে দেরি হবে না। ভারতবর্ষের মানুষ কিন্তু কোনো শাসককেই একতরফা বেশিদিন মেনে নেয়নি। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখতে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ সবচেয়ে জরুরি সব দেশে সবকালেই। কোনো দল সেই ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে আরশোলা, খরগোশের উৎপাত বাড়তে বাধ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ