Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গণপিটুনিতে হত নান্টু প্রধান চর্চায়

গণপিটুনিতে হত নান্টু প্রধান চর্চায়
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: একদা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মৃত তৃণমূল নেতা নান্টু প্রধানের এলাকায় গণহারে চাকরি বাতিল হয়েছে। মহম্মদপুর-১ পঞ্চায়েতের উত্তরবাড়-শেখবাড় বুথে নান্টু প্রধানের বাড়ি। শুধুমাত্র ওই বুথে ১২ জন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তালিকায় নান্টু প্রধানের ভা‌ই পিন্টু প্রধানের শ্যালকও আছেন। মহম্মদপুর-১ ও ২গ্রাম পঞ্চায়েতে ৬০ জনের বেশি গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তাঁদের অনেকের চাকরি আগেই খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। সাদাখাতা জমা দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে একসময় মাইনে বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁরা ফের স্কুলে যোগ দিয়ে নিয়মিত মাইনে পাচ্ছিলেন।

Advertisement

একসময় ভগবানপুর-১ ও মহম্মদপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান ছিলেন নান্টু প্রধান। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ ছিল। নিজের বিএড কলেজে চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় লেগেই থাকত। তাঁর হাতযশে অনেকেই শিক্ষক এবং অশিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মোবাকরপুর গ্রামে চাষের জমিতে ভেড়ি তৈরি করা নিয়ে ঝামেলায় গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় নান্টু প্রধানের। মৃত্যুর সাত বছর পর আবারও এলাকায় চর্চার কেন্দ্রে এলাকার সেই সময়কার দাপুটে নেতা। 
নান্টুবাবুর নিজের বুথেই গ্রুপ-ডির চাকরি গিয়েছে ১২ জনের। সেই তালিকায় নান্টুবাবুর ভাই তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই বুথের সদস্য তাঁর ভাই পিন্টু প্রধানের শ্যালকও আছেন। ওই গ্রামেরই পিন্টুবাবুর শ্বশুরবাড়ি। পিন্টুবাবু বলেন, আমাদের এলাকার অনেকের চাকরি বাতিল হয়েছে। আমার বুথেই ১২ জন গ্রুপ-ডি কর্মী চাকরিহারা হয়েছেন। ওই তালিকায় আমার খুড়তুতো শ্যালকও আছেন। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আশা করি, মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারাদের জন্য কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।
মহম্মদপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শেখবাড়-উত্তরবাড়, পূর্ববাড়, নিমকবাড়, পশ্চিমবাড়, মহম্মদপুর এলাকায় অন্তত ৩০ জন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি খারিজ হয়েছে। তাঁদের বেশ কয়েকজনের চাকরি আগেই খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। মহম্মদপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতেও সমানভাবে দাপট ছিল নান্টুবাবুর। সেই গ্রাম পঞ্চায়েতেও ৩০ জনের বেশি শিক্ষক, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রতিমা ওঝার নিজের বুথ তিরাইপুরেই ছ’জন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ভীম মান্না সবং থানার উত্তরখামার হাইস্কুলের গ্রুপ-ডি কর্মী। তাঁর স্ত্রী রামনগর হাইস্কুলের গ্রুপ-ডি কর্মী। দু’জনেরই চাকরি বাতিল হয়েছে। এর আগে হাইকোর্টের রায়ে তাঁদের মাইনে বন্ধ ছিল। সেই রায়ে স্থগিতাদেশ হওয়ায় ফের তাঁদের মাইনে চালু হয়। একইভাবে মহম্মদপুর গ্রামে মিলন কাণ্ডার, রূপচাঁদ শিট সহ অনেকের চাকরি বাতিল হয়েছে। আগেও হাইকোর্টের রায়ে তাঁদের মাইনে বন্ধ করা হয়েছিল।
মহম্মদপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫০ জনের বেশি অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই অশিক্ষক কর্মীদের অনেকেই নান্টুবাবুর হাতযশে চাকরি পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এবিষয়ে তিরাইপুর গ্রামের বাসিন্দা ভীম মান্না বলেন, এভাবে সকলের চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। এই এলাকায় অনেকেই চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু, একটা রায়ে তাঁদের সকলের বাড়িতে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। 
মহম্মদপুর-২ পঞ্চায়েতের প্রধান প্রতিমা ওঝা বলেন, আমার বুথে মোট সাত জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। গোটা গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩০-৩২ জনের চাকরি গিয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই গ্রুপ-ডি কর্মী। মহম্মদপুর ৯ নম্বর বুথের তৃণমূল নেতা শচীন্দ্রনাথ মান্না বলেন, আমার একটা বুথে ছ’জন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ