Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতা মন্ত্রিত্ব ছাড়তেই মুখ ফেরায় রেল, কোর্টের নির্দেশে চাকরি বঞ্চিত জমিদাতাদের

মমতা মন্ত্রিত্ব ছাড়তেই মুখ ফেরায় রেল, কোর্টের নির্দেশে চাকরি বঞ্চিত জমিদাতাদের
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: হাইকোর্টের নির্দেশে নন্দীগ্রাম রেল প্রজেক্টে ১০৫জন জমিদাতা রেলে চাকরি পেলেন। তাজপুর, হরিপুর, বাহাদুরপুর, ঘোলপুকুরিয়া সহ গোটা প্রজেক্ট এলাকার ওই সংখ্যক জমিদাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে গ্রুপ-ডি চাকরি পেলেন। গত ৩০ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁরা চক্রধরপুরে জয়েন করেছেন। এর আগে ৪৪৪ জন নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। হাইকোর্টের নির্দেশে আরও ১০৫ জন জমিদাতা চাকরি পেলেন। তবে, চাকরির আশায় আরও অনেক জমিদাতা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটায় খুশি ঘোলপুকুরিয়ার মহামায়া মাইতি, শঙ্কর দাস, শম্ভু মণ্ডল, হরিপুরের তাপস পণ্ডা, শুভ্রাংশু পণ্ডা সহ আরও অনেকে।

Advertisement

সোমবার হরিপুর গ্রামের মিলনপাড়ার বাড়িতে ছিলেন সদ্য রেলে যোগ দেওয়া জমিদাতা তাপস পণ্ডা। তিনি বলেন, আমরা ২০১২ সালে এই রেল প্রজেক্টে জমি দিয়েছি। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নিয়োগপত্র পাচ্ছিলাম না। শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশে আমাদের চাকরি হয়েছে। চক্রধরপুরে গ্রুপ-ডি কর্মী হিসেবে জয়েন করেছি। এখন ভালো লাগছে। আরও অনেক জমিদাতা নিয়োগপত্রের জন্য আইনি লড়াই করছেন। আশা করি, তাঁরাও ন্যায্য বিচার পাবেন।
ঘোলপুকুরিয়ার বাসিন্দা অনুপম মাইতি বলেন, রেল প্রজেক্টের জন্য আমার ৩৬ ডেসিমল জমি গিয়েছে। প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও নিয়োগপত্র মেলেনি। এই অবস্থায় আমরা বেশ কয়েকজন জমিদাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। শেষমেশ আমার স্ত্রী মহামায়া মাইতি চাকরিতে জয়েন করেছেন।
নন্দীগ্রামের বটতলা থেকে ঘোলপুকুরিয়া পর্যন্ত রেল লাইনের কাজে তদারকির দায়িত্বে আছেন হরিপুর গ্রামেরই দীপক মাইতি। তিনি বলেন, ১০৫ জন জমিদাতা চাকরি পেয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ জমিদাতাদের বঞ্চিত করে রেখেছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে ওই জমিদাতারা চাকরি পেয়েছেন। জমিদাতারা চাকরি পাওয়ায় জমিজটও কেটে গিয়েছে। এখন লাইনের কাজে কোনও বাধা আসছে না।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন নন্দীগ্রাম থেকে বাজকুল(দেশপ্রাণ স্টেশন) পর্যন্ত নতুন রেলপথের ঘোষণা করেছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম স্টেট ব্যাঙ্ক সংলগ্ন মাঠ থেকে এর শিলান্যাস হয়েছিল। ওই বছর ৮ জুন নতুন রেলপথের জন্য মোট ৯১কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই কাজ অনেকটাই এগিয়েছিল। কিন্তু, কেন্দ্রে সরকার বদলের পর ওই প্রকল্প ধামাচাপ পড়ে যায়। নন্দীগ্রাম থেকে বাজকুল(দেশপ্রাণ স্টেশন) পর্যন্ত মোট সাড়ে ১৮ কিলোমিটার রেললাইন পাতার কাজ হবে। ১০৩৭টি প্লটে মোট ১৯৪ একর ৩৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করা দরকার। মোট ২০০০ জনকে রেলে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, কেন্দ্রে সরকার বদলের ফলে গোটা প্রকল্পটাই হিমঘরে চলে যায়। সেইসঙ্গে জমিদাতাদের প্রত্যেকের চাকরি পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বঞ্চিত জমিদাতারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।  ২০২৪ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জিএম অনিলকুমার মিশ্র ওই রেলপথ পরিদর্শনে গেলে বঞ্চিত জমিদাতারা বিক্ষোভ দেখান। ‌঩রেলের বক্তব্য ছিল, রেল প্রকল্পে জমি দিলে চাকরির পলিসি পরিবর্তন হয়েছে। সুতরাং এখন চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও একই প্রকল্পে ৪৪৪জন জমিদাতা চাকরি পেলে বাকিরা পাবেন না বলে তানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছিল জমিদাতাদের। রেল-জমিদাতা সংঘাতে প্রকল্পের কাজ খেই হারিয়েছিল। যদিও আইনের দ্বারস্থ হয়ে একসঙ্গে ১০৫জন সদ্য চাকরিতে জয়েন করেছেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে নন্দীগ্রাম রেল প্রজেক্টে ১০৫জন জমিদাতা সদ্য চাকরিতে জয়েন করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ