নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন।’ বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর জামিন মামলায় এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল হাইকোর্ট। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি। তিনি নির্বাচনে অংশ নিন। বাকিটা মামলার ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে।’ আজ শুক্রবার বিকেল ৪টেয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি। পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারির পর জামিন চেয়ে বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মিলন। বৃহস্পতিবার শুনানিতে বিচারপতি ঘোষ জানান, আসন্ন উপনির্বাচনে মিলনকে লড়াই করতে দেওয়া হোক। তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দেবেন। তবে সব মামলার কেস ডায়েরি এসে না পৌঁছনোয়, এদিন নির্দেশ দেননি বিচারপতি।
এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা বাকি পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মিলন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে সেই মামলার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘রাজ্যের আশ্বাসের পরেও নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। অথচ, নতুন মামলায় ৭ তারিখ পর্যন্ত মিলনকে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি ভট্টাচার্যর নির্দেশ, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি, ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না। যদিও এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। আজ শুনানির সম্ভাবনা। এদিন মিলনের গ্রেপ্তারি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর এই লড়াইয়ে সমর্থন দেওয়ার জন্য রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। দল, মত নির্বিশেষে সবার কাছে আবেদন, এই লড়াইয়ে পাশে থাকুন। শুক্রবার থেকে আমি নিজে প্রচারে নামছি।’
অন্যদিকে, রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে আইএসএফের প্রতীক কেড়ে নেওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘কমিশনের নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করা উচিত। চার মাস আগে একটা রাজনৈতিক দল যে প্রতীক ব্যবহার করেছে, কেন সেটা অন্যকে দেওয়া হল? আপনারা কেন প্রতীক ফ্রিজ করে রাখলেন না? ১৮৬টি প্রতীক রয়েছে, তাহলে কী সমস্যা হত?’ আজ শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি।