নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একটা বুথের ১১৩ জন ভোটারকে বিচারাধীনের আওতায় রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরোনো পর দেখা যাচ্ছে, সকল বিচারাধীন ভোটারের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। এমনই চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে এসেছে কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের দিগনগর গ্রামে পঞ্চায়েতে। সেখানকার দক্ষিণ হাতিশালা এলাকার ২৩০ নম্বর বুথে একশো শতাংশ বিচারাধীন ভোটারের নামই বাদ পড়েছে। যার ফলে বেড়েছে উদ্বেগ। সব বিচারাধীন ভোটার কীভাবে অবৈধ হতে পারে, সেই প্রশ্ন উঠছে গ্রামবাসীদের মনে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট বুথটি হল পঞ্চায়েতের সিপিএম উপপ্রধানের। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই বুথে বামেরা জয়ী হয়েছিল। যদিও একুশের বিধানসভা ও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই বুথেই বিজেপি এগিয়েছিল। এবার সেই কেন্দ্রেই একশো শতাংশ বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যা বেনজির বলেই মনে রাজনৈতিক মহল। দেখা যাচ্ছে, নাম বাদ যাওয়া ১১৩ জনের মধ্যে ৬০ জন পুরুষ এবং ৫৩ জন মহিলা। উল্লেখ্য এই এলাকায় ওপার বাংলা থেকে আসা বহু মানুষ রয়েছেন।
নাম বাদ যাওয়া যুধিষ্ঠির দেবনাথ বলেন, ‘আমার পুরোনো জমির দলিল রয়েছে। ছেলের পাসপোর্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করছি। কিন্তু তারপরেও নাম কীভাবে বাদ গেল বুঝতে পারছি না। আতঙ্কে আছি। আমার পরিবারের আরও অনেকের নাম বাদ গিয়েছে।’
স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে এসসি-ওবিসি সেলের সভাপতি রুইদাস মণ্ডল বলেন, ‘বিজেপি হিন্দুত্বের রাজনীতি করেছে আর হিন্দুদের নাম বাদ দিচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যায় যে বিজেপি মানুষের ভোটাধিকার কাড়তে চাইছে। আমাদের দল বিজেপির এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মানুষের নাম পুনরায় কীভাবে ভোটার তালিকাতে তোলা যায়, সেই চেষ্টা চলছে। আমাদের ২৩০ নম্বর বুথে সমস্ত বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।’
কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী লাবণী জঙ্গি বলেন, ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং তৃণমূল মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা মানুষকে সংঘবদ্ধ করছি। যেভাবে মানুষকে নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।’
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘এর জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা। রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের দিয়ে তৃণমূল নাম বাদ দিয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে। কারণ তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।’ যদিও দিগনগর পঞ্চায়েতের শুধুমাত্র ২৩০ নম্বর বুথেই নয়, আশেপাশের বিভিন্ন বুথে নাম বাদ গিয়েছে বহু ভোটারের। ২২২ নম্বর সংখ্যালঘু বুথে ১৭৩ জন বিচারাধীন ভোটার ছিল। যার মধ্যে ১৬৪ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ২৩৫ নম্বর বুথে ৮৪ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ৮৩ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়াও ২৩৬ নম্বর বুথে ১১৪ জন এবং ২৩৭ নম্বর বুথে ৮০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। • নিজস্ব চিত্র