Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধাননগরের ৮১ জন, বাগদায় ৩৬ জন ভোটারের নাম উধাও! ভোটার তালিকার সংযোজিত অংশ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ

ভোটার তালিকায় ‘হ য ব র ল’ কাণ্ড সামনে আসে গত ৩০ অক্টোবর।

বিধাননগরের ৮১ জন, বাগদায় ৩৬ জন ভোটারের নাম উধাও! ভোটার তালিকার সংযোজিত অংশ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: ভোটার তালিকায় ‘হ য ব র ল’ কাণ্ড সামনে আসে গত ৩০ অক্টোবর। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, ২০০২ সালের কাগুজে নথি বা ‘হার্ড কপি’র সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া ‘ডকুমেন্ট’ মিলছে না। অর্থাৎ, হার্ড কপিতে দেখা যাচ্ছে ভোটারের নাম রয়েছে। অথচ ওয়েবসাইটে নেই। এবার আরও একটি অভিযোগ সামনে এল, পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের তরফে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। মূল ভোটার তালিকার শেষাংশে একটি অ্যাডিশন বা সংযোজিত পেজ থাকে। সেটি নেই কমিশনের ওয়েবসাইটে। বিধাননগরে এমন ৮১ জনের নাম পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নেই। যা নিয়ে নির্বাচনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তৃণমূল। 

Advertisement

যাবতীয় জট ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ঘিরে। বর্তমানের বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রটি সেই সময় ছিল বেলগাছিয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ২৩২ নম্বর পার্টে দক্ষিণদাঁড়ি রোডের অংশের ভোটারদের নাম কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে উধাও হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ২৩ বছর আগের যে ভোটার তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে কমিশন, তাতে দেখা যাচ্ছে ৯০৩ জনের নাম রয়েছে। কিন্তু ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত বা হার্ড কপিতে রয়েছে ৯৮৪ জনের নাম। অর্থাৎ ৮১ জনের নাম উধাও কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে। মূল ভোটার তালিকার সঙ্গে একটি সংযোজিত অংশ থাকে। ওই অংশ থেকে বোঝা যায়, কারা নতুন নাম তুলেছেন কিংবা কাদের নাম বাদ গিয়েছে। সেখানেই গলদ। গোটা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৩ বছর আগের পূর্ণাঙ্গ ও অপরিবর্তিত তালিকার প্রতিটি পৃষ্ঠা আপলোড করতে হবে ওয়েবসাইটে। ওয়েবসাইটে দেওয়া তালিকায় নাম না দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং আতঙ্কে ভুগছেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার বুথ লেভেল এজেন্ট-১ তথা রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ চিঠি পাঠিয়েছেন নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর প্রশ্ন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সংযোজিত অংশটি কেন কমিশন ওয়েবসাইটে আপলোড করেনি? বিধাননগর ছাড়াও জেলার আরও কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে একই ঘটনা আমাদের নজরে এসেছে। তাই কমিশনকে বলা হয়েছে, সব পাতা অবিলম্বে আপলোড করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। 
গত ৩০ অক্টোবর তৃণমূল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ঘটনা সামনে আনে। তাতে দেখা যায়, কোথাও ৭১৭ জন ভোটারের সংখ্যা নেমে এসেছে ১৪০-এ। কোথাও গোটা বুথের সব ভোটারের নাম উধাও কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে।
একই ঘটনার সাক্ষী বাগদা ব্লকের কানিয়ারা ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে উধাও ৩৬ জন ভোটারের নাম। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ইনিউমারেশন ফর্মও পাননি তাঁরা। নির্বাচন কমিশনে এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূলের সভাপতি নিউটন বালা। জানা গিয়েছে, কানিয়ারা ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ৫৩ নম্বর পার্টে ২০০২ সালে ভোটার ছিলেন ১,১৯৭ জন। কিন্তু ওই এলাকায় নিযুক্ত বিএলও’র কাছে যে তালিকা রয়েছে, তাতে ওই সংখ্যা ১,১৬১। অর্থাৎ ৩৬ জন ভোটার তালিকা থেকে উধাও। যা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিউটন বালা বলেন, বিএলও’র কাছে থাকা ২০০২ সালের তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আমরা নির্বাচন 
কমিশনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আবেদন করেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ