Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২০০২ সালের পর বাংলাদেশ থেকে বর্ধমানে, নাম নেই তালিকায়, ঘুম উবেছে বহু পদ্ম নেতার

এসআইআর নিয়ে এখন বুক কাঁপছে বহু বিজেপি নেতা এবং কর্মীর। ভিত্তিবর্ষ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নামই নেই! তালিকায় খোঁজ নেই পূর্ব-পুরুষদেরও।

২০০২ সালের পর বাংলাদেশ থেকে বর্ধমানে, নাম নেই তালিকায়, ঘুম উবেছে বহু পদ্ম নেতার
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল , বর্ধমান :

Advertisement

এসআইআর নিয়ে এখন বুক কাঁপছে বহু বিজেপি নেতা এবং কর্মীর। ভিত্তিবর্ষ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নামই নেই! তালিকায় খোঁজ নেই পূর্ব-পুরুষদেরও। তার মানে এটা স্পষ্ট, ওই বছরের পর কোনও একটা সময়ে তাঁদের নাম উঠেছে তালিকায়। কেউ কেউ আবার অতি সম্প্রতি নাম তুলেছেন। ফলে, সঠিকভাবে এসআইআর হলে তাঁদের নাম বাদ যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। তাতে এসআইআর বুমেরাং হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক গেরুয়া শিবিরের অনেক নেতাই। যেমন, অরুণ ঠাকুর নামে এক নেতা সোমবার বলছিলেন, ‘আমাদের মণ্ডলের এক নেতা কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। তাঁর পরিবারের অনেকেই এখনও ওপারে থাকেন। তিনি সদ্য ভোটার হয়েছেন। এসআইআরে যে শর্ত রয়েছে, তাতে তাঁর নাম বৈধ ভোটার তালিকায় থাকার কথা নয়। আর সত্যিই এমনটা হলে মুখ পুড়বে দলের। ওই নেতাকে ভেবে চিন্তে পদে বসানো উচিত ছিল শীর্ষ নেতৃত্বের।’ 
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বুথস্তরে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন ১০ থেকে ১২ বছর আগে ওপার বাংলা থেকে এসেছেন। দলের নির্দেশ রয়েছে, বুথের নেতারা যেন বৈধ ভোটারদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেন। কিন্তু, তাঁদের এখন অবস্থাটা ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’র মতোই। নিজেরাই এসআইআর আতঙ্কে রাতে ঘুমোতে পারছেন না। বিজেপির আর এক আদি নেতা কেশব কোনারও আক্ষেপের সঙ্গে বলছিলেন, ‘নেতৃত্ব যাকে হাতের কাছে পেয়েছে, তাঁকেই পদ দিয়েছে। আমরা যাঁরা পুরনো, ভালোবেসে দলটাকে এখনও করি, তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ থেকে আসা এক নেতার বিরুদ্ধে আমরা লিখিতভাবে রাজ্য নেতৃত্বর কাছে জানিয়েছিলাম। লাভ হয়নি।  
রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপি নেতারা বারবার ঘুরিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁদের জন্যই নির্বাচন কমিশন এসআইআর করছে। সেই কৃতিত্ব নিতে গিয়ে নেতারা এখন দলকে বিপাকে ফেলেছেন। শুধু নেতা-কর্মীদের একাংশই নন, বঙ্গে বিজেপির উত্থানের পিছনে যে মতুয়ারা অনুঘটকের কাজ করেছিলেন তাঁরাও এখন উদ্বিগ্ন। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এমন অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বৈধ নথি নেই। এসআইআর চালু হতেই তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। জামালপুর, মেমারি, আউশগ্রাম, পূর্বস্থলীর মতো মতুয়া প্রভাবিত এলাকাগুলিতে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গাড্ডায় পড়া বিজেপিকে আরও বিপাকে ফেলতে কোমর বেঁধে  নেমে পড়েছে তৃণমূল। এসআইআর আমজনতাকে দুর্ভোগে ফেলছে, সেটাই তুলে ধরছেন শাসক নেতারা। যেমন, বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস বলেছেন, ‘বিজেপির কাজই হল মানুষকে সমস্যায় ফেলা। মানুষ কিন্তু এসব ভুলে যাবে না। ইভিএমে জবাব দিতে তৈরি সকলেই।’ 
যদিও বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের সাফাই—‘আমরা মতুয়াদের পাশে রয়েছি। তাঁরা যাতে নাগরিকত্ব পান, সেই দাবি আমরা বহু আগে থেকেই তুলেছি। তৃণমূল এসআইআর নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাতে লাভ হবে না।’ নেতারা যাই বলুন, এসআইআর নিয়ে এসআইআর নিয়ে বিজেপির অন্দরেই চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, তৃণমূলস্তরে বিজেপির সংগঠনকে যাঁরা লালন করে আসছেন সেইসব মণ্ডলের নেতা-কর্মীদের একাংশের নাম বাদ গেলে ভোটে লড়াই করবে কে? দলের নেতারা তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বোঝচ্ছেন। কিন্তু সংশয় কাটছে না! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ