Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আপনার নাম সভাপতি হিসেবে লিস্টে ছিল না, বিজেপির প্রভাবশালীর মন্তব্যে মনোনয়নে ছন্দপতন

আপনার নাম সভাপতি হিসেবে লিস্টে ছিল না, বিজেপির প্রভাবশালীর মন্তব্যে মনোনয়নে ছন্দপতন
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বৃহস্পতিবার তমলুকে বিজেপির জেলা পার্টি অফিসে নতুন জেলা সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হল। হবু জেলা সভাপতি হিসেবে প্রবীণ নেতা মলয় সিনহার নাম রাজ্য পার্টি অফিস থেকে আসে। মলয়বাবুর মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই তাঁর উদ্দেশে এক প্রভাবশালী নেতা মন্তব্য করে বসেন, ‘সভাপতি হিসেবে আপনার নাম লিস্টে ছিল না। আপনাকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত দলের নয়। এটা একজন প্রভাবশালী নেতার মত’। তাঁর ওই বক্তব্য শুনে গোটা সভাস্থল চুপ হয়ে যায়। নেতারা একে অপরের দিকে তাকাতে থাকেন। এখানেই না থেমে ওই প্রভাবশালী নেতার আরও যোগ, ‘আপনি আমার থেকে সহযোগিতা পাবেন না। আপনাকে আগাম জানিয়ে রাখলাম।’ গোটা ঘটনায় প্রবল অস্বিত্বে বিজেপি।

Advertisement

দলের নির্বাচন বিধি মেনেই এদিন মলয়বাবুর মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়। অন্য কোনও নেতা মনোনয়ন জমা না করায় মলয়বাবুর জেলা সভাপতি হওয়াও একপ্রকার নিশ্চিত। শুধুমাত্র ঘোষণার অপেক্ষা। তার মধ্যেই এই ঘটনা। এদিন মনোনয়ন উপলক্ষ্যে জেলা নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, বামদেব গুছাইত, সোমনাথ ভুঁইয়া, আনন্দ নায়ক ও নীলাঞ্জন অধিকারীরা উপস্থিত হন। এছাড়াও তিনজন মণ্ডল সভাপতি ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন সাংসদও।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপসী মণ্ডল। তবে, আগে থেকেই তাপসী মণ্ডলের জায়গায় এই জেলায় অন্য কাউকে জেলা সভাপতি করার চেষ্টা শুরু হয়। ১২জন নেতার কাছ থেকে এনিয়ে মতামত নেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে চারজনের নাম আসে। তাঁরা হলেন মলয় সিনহা, সোমনাথ ভুঁইয়া, বামদেব গুছাইত এবং আশিস মণ্ডল। দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা করতে হবে। বৃহস্পতিবারই রাজ্য থেকে সম্ভাব্য জেলা সভাপতির নাম আসে। সমর্থনের জন্য অন্তত তিনজন মণ্ডল সভাপতিকে প্রয়োজন। সেইমতো তমলুক-৪মণ্ডল কমিটির সভানেত্রী শিল্পা মণ্ডল, তমলুক-৫মণ্ডলের সভাপতি অনিন্দ্যসুন্দর দাস এবং নন্দকুমার-২মণ্ডলের সভাপতি সন্দীপ চক্রবর্তীকে জরুরি তলব করে জেলা পার্টি অফিসে ডাকা হয়।
জেলা সভাপতি হিসেবে শুধুমাত্র মলয়বাবু মনোনয়ন জমা করবেন বলে জানানো হয়। এই খবর জানতে পেরে ইচ্ছুক চারজনের মধ্যে একজন জেলা পার্টি অফিস চত্বরে এসেও ভেতরে ঢোকেননি। জেলা নেতৃত্ব এবং তিন মণ্ডল সভাপতিকে নিয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত হন সাংসদও। বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক প্রভাবশালী নেতা হবু জেলা সভাপতিকে তাঁর পছন্দ নয় বলে সরাসরি জানিয়ে দেন। দলীয় সূত্রের খবর, ওই প্রভাবশালী নেতা ময়নার এক বিজেপি নেতাকে জেলা সভাপতি হিসেবে চেয়েছিলেন। সেটা না হওয়াতেই তিনি একেবারে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেন।
শুধু তাই নয়, রেজ্যুলিউশন খাতায় ওই প্রভাবশালী নেতা ‘অবজেকশন’ শব্দ লিখে দিয়েছেন। অর্থাৎ মলয়বাবুকে জেলা সভাপতি করার প্রক্রিয়ায় তাঁর নিজের আপত্তি নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেই কপি স্ক্যান করে রাজ্য পার্টি অফিসে পাঠাতে হয়। গোটা ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। 
মলয়বাবু বলেন, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা করেছি। কিন্তু, অফিসিয়ালি ঘোষণা এখনও হয়নি। সুতরাং, জেলা সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণার আগে কোনও মন্তব্য করব না। 
প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৃহস্পতিবার জেলা পার্টি অফিসে আমি উপস্থিত ছিলাম। মলয়বাবু জেলা সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন জমা করেছেন। রাজ্য থেকে তাঁর নাম এসেছিল। নির্বাচনী পদ্ধতি মেনে সবটা‌ই করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ