Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাম, নম্বর একই, রানাঘাটের ভোটার পুষ্প পড়শি জেলার আমডাঙায়! চাঞ্চল্য

কৃষ্ণনগরের চয়নের পর এবার রানাঘাটের পুষ্প। ভোটার তালিকার চূড়ান্ত গরমিলের শিকার তিনি। তৃণমূল বলছে, পরিকল্পিত কারচুপি

নাম, নম্বর একই, রানাঘাটের ভোটার পুষ্প পড়শি জেলার আমডাঙায়! চাঞ্চল্য
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: কৃষ্ণনগরের চয়নের পর এবার রানাঘাটের পুষ্প। ভোটার তালিকার চূড়ান্ত গরমিলের শিকার তিনি। তৃণমূল বলছে, পরিকল্পিত কারচুপি। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত করে দেখা হবে। 

Advertisement

রানাঘাট শহরের থানাপাড়া স্বর্গদ্বার লেনের বাসিন্দা পুষ্প শিকদার। এখনও ওই মহিলার নামে এসআইআর ফর্ম আসেনি। খোঁজ করে জানতে পারেন, তাঁর নাম এবং ভোটার কার্ড নম্বর ব্যবহার করে কেউ নিজের নাম তুলেছেন। সেই ভোটারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙায়! সেই কারণেই ইনিউমারেশন ফর্ম তাঁর পরিবর্তে বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে সেই নকল পুষ্প শিকদারের নামে। অথচ, ঠাকুর্দার আমল থেকেই পুষ্পরা রানাঘাটের বাসিন্দা। প্রতিটি নির্বাচনে ভোটও দিয়ে আসছেন।  কিন্তু এসআইআর চালু হতেই পুষ্প এখন নাগরিকত্ব প্রমাণে ঘোরতর সঙ্কটে পড়েছেন। 
নির্বাচনী তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল পুষ্পর।  রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভার ২৪২ নম্বর বুথে ভোটও দিয়ে এসেছেন নিয়মিত। সম্প্রতি পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে এসআইআর ফর্ম এসেছে। কিন্তু, তিনি কোনও ফর্ম পাননি। পুষ্পর সন্দেহ তৈরি হয়। খোঁজখবর করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধরা পড়ে ভোটার তালিকায় বিস্তর গোলমালের বিষয়টি। জানা যায়, পুষ্প শিকদারের ভোটার কার্ড ‘এমটিম ৩০৮৯৫২১’ এখন রানাঘাটের পরিবর্তে তালিকাভুক্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায়। ওই ভোটার কার্ডধারীর নামও পুষ্প শিকদার। অথচ, এই পুষ্প রানাঘাটের পুষ্প নয়! সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁর নাম এবং ভোটার আইডি ব্যবহার করে নাম তুলেছেন আমডাঙার ভোটার তালিকায়। তফাৎ বলতে আমডাঙার পুষ্পর স্বামীর নাম নগেন শিকদার। অন্যদিকে, রানাঘাটের পুষ্পর স্বামী নাম ভোটার তালিকা অনুযায়ী রবিন শিকদার।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একজন বৈধ ভোটারের নম্বর একই রেখে তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় বদলে অন্য জেলায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা সম্ভব হল? তদন্তের আর্জি জানিয়ে দুই জেলার নির্বাচনীদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন থানাপাড়ার বাসিন্দা ওই মহিলা। তিনি এদিন বলছিলেন, ‘রানাঘাটেই আমার জন্ম। বিয়েও হয়েছে একই বিধানসভা এলাকায়। তাই বরাবর আমার অথবা আমার বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির সমস্ত সদস্যদের নাম এখানেই ছিল। ২০২২ সালে আমি পুরসভা ভোট দিয়েছি। আমার নম্বর কী করে অন্যের নামে গেল? এটা কোনও সাধারণ ভুল নয়। আমি বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।’ 
বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘একজন ভোটারের নাম বাদ দিয়ে সেই নম্বর অন্য কারও নামে ব্যবহার করা গুরুতর অন্যায়। পরিকল্পিত কারচুপি ছাড়া এটা সম্ভব নয়। সম্প্রতি এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এবং নির্দিষ্টভাবে তৃণমূলের ভোটারদের ক্ষেত্রেই ঘটছে। এসব দেখে মনে হচ্ছে, পরিকল্পিত রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি।’ তবে মহাকুমা নির্বাচনী দপ্তরের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিক অনির্বাণ বসু বলেছেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ আমাদের হাতে এখনও আসেনি। অভিযোগ এলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে। কোনও ভোটারের পরিচয় দুই জেলায় পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 
এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে শক্তিনগরের বাসিন্দা চয়ন সরকারের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ ওঠে। তাঁর নাম ও বাবার নাম অপরিবর্তিত রেখে ভোটার কার্ডের ঠিকানা বদলে গিয়ে পৌঁছেছিল রানাঘাট দক্ষিণের ২৮০ নম্বর বুথে। পরে জানা যায়, যাঁর নামে ওই কার্ড তিনি নাকি বর্তমানে বাংলাদেশ নিবাসী!  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ