সংবাদদাতা, চাঁচল: চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। অপেক্ষার তালিকায় নাম থাকা দরিদ্র উপভোক্তারা পাকা ঘরের স্বপ্ন দেখছেন। তার মধ্যেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালদহের চাঁচল ১ ব্লকের অলিহোন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক উপভোক্তা। চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখালেন ওই পঞ্চায়েতের দেবীগঞ্জ গ্রামের উপভোক্তারা। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের প্রকৃত উপভোক্তা বলে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গত বছর প্রশাসনের আধিকারিকের বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করে গিয়েছেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অপেক্ষা তালিকায় (পিডব্লুএল) তাঁদের নামও উঠেছিল। এমনকি একটি খসড়া কপিও দেওয়া হয় উপভোক্তাদের।
বিক্ষোভকারী রিপন আলির অভিযোগ,আমার আইডি রয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ততালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের কাটমানি না দেওয়ায় বঞ্চিত হতে হল। আরেক বিক্ষোভকারী শুখুয়া বলেন, পাকা বাড়ি পাব বলে অপেক্ষা করছিলাম। শুনছি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। টাকার অভাবে কাঁচা বাড়িটিও মেরামত করতে পারছি না।
মাজেদ আলির মন্তব্য,দু’দিন আগে প্রশাসনের লোকেরা সমীক্ষা করে গিয়েছে। এখন দেখছি চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই। অথচ যাদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাদেরই নাম রয়েছে। ২০ হাজার টাকা কাটমানি না দেওয়ায় এমন হয়েছে। চাঁচলের মহকুমা শাসক ঋত্বিক হাজরা বলেন,প্রকৃতরা যাতে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা পান,সেজন্য প্রশাসনের তরফে সমীক্ষা করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখছি।
প্রকৃতদের নাম ছাঁটাই নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে সরকারের প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে কাটমানি দিতে হয়। এটা নতুন কিছু নয়। তৃণমূল নেতারা পকেটে টাকা ঢুকিয়ে অযোগ্যদের বাড়ি দিচ্ছেন। পাল্টা মালদহ জেলা পরিষদের তৃণমূলের সহকারী সভাধিপতি রফিকুল হোসেন বলেন, আবাস যোজনার বরাদ্দ না দিয়ে বাংলার মানুষের সঙ্গে বঞ্চনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের নেতাদের এমন মন্তব্য শোভা পায় না। প্রকৃতরা যাতে বাদ না পড়েন, বিষয়টি প্রশাসনকে দেখতে বলা হবে। নিজস্ব চিত্র