অবিকারী বিকারী বা সর্ব্বদোষৈকভাজনঃ।
অবিকারী বিকারী বা সর্ব্বদোষৈকভাজনঃ।
পরমেশপদং যাতি রাম-নামানুকীর্ত্তনাৎ।।
—বিষ্ণুপুরাণ।
রোগী অথবা নিরোগী, সমস্ত দোষের একমাত্র আধার মহাপাপীও, রামনাম কীর্ত্তন ক’রে পরমেশ্বরের পরমপদে গমন ক’রে থাকে। মাত্র নামকীর্ত্তন কর্লেই পরমপদ মহাপাপীও লাভ কর্তে পারে? অবশ্যই পারে। কোন সাধন কর্তে হবে না। মাত্র নাম কর্লেই অনায়াসে দেবযানে পরমপদে গমন কর্তে পার্বে। ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ এই চতুর্বর্গ নামকারী প্রাপ্ত হয়।
কলের্দোষসমুদ্রস্য গুণ একো মহান যতঃ।
নায়াং সঙ্কীর্ত্তনেনৈব চাতুর্বর্গং জনোঽশ্নুতে।।
—সাত্বত তন্ত্র
দোষসমুদ্র কলির এই একটি মহান্ গুণ—যে মাত্র নামসঙ্কীর্ত্তনের দ্বারা মানব চতুর্বর্গ লাভ করে। এই অপরিসীম শক্তিমান্ নামের যাঁরা সঙ্গ করেন তাঁরাও তদ্রূপ শক্তিশালী হন।
যে পঠন্তি নমস্যন্তি ধ্যায়ন্তি পুরুষোত্তমম্।
তান্ স্পৃষ্ট্বা অথবা দৃষ্ট্বা নরৈঃ পাপৈঃ প্রমুচ্যতে।।
—মহাভারত।
যাঁরা পুরুষোত্তমকে ধ্যান করেন, তাঁর নাম পাঠ করেন অথবা প্রণাম করেন, তাঁদের দেখে অথবা স্পর্শ ক’রে মানুষ সর্বপাপ হ’তে মুক্ত হয় ও সেইজন্য লোকে সাধু দর্শন কর্তে যায়। সাধুগণ ভগবানের নাম করেন; তাঁদের দর্শনে বিনা সাধনায় পাপী পাপ হ’তে মুক্ত হয়।
গীতায়াঃ শ্লোকপাঠেন গোবিন্দস্মৃতি-কীর্তনাৎ।
সাধুদর্শনমাত্রেণ তীর্থকোটিফলং লভেৎ।।
গীতার শ্লোক পাঠ ও গোবিন্দের স্মরণ-কীর্ত্তন কর্লে, আর সাধু দর্শনমাত্রেই, মানব কোটিতীর্থ দর্শনের ফল লাভ করে। এত সহজ উপায় মানুষ কেন অবলম্বন করে না? প্রকৃত সাধু দুর্লভ এবং সাধু দর্শনের প্রবৃত্তি পাপীদের হয় না; বরং দূরে থেকে নিন্দা ক’রে পাপের বোঝা বাড়ায়। নাম নিয়েই সর্বদা থাক্তে তো পারা যায় না, মন আরও কিছু চায়।
হৃদয়ে লিখে লিখে নামের ধ্যান কর্বে। সাধুগণ বলেন—
“নাম সাক্ষাদ্ভগবদ্রূপমেব”
শ্রীভগবান্ যেমন মৎস্যাদি অনেক অবতার-রূপ ধারণ ক’রে সাধুগণের পরিত্রাণ ও পাপাদি নাশ করেন, সেইরূপ নামও তাঁর অবতারবিশেষ। যেরূপ কুরুসভায় দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণের জন্য বস্ত্রাবতার, গোকূলে ব্রহ্মমোহনের জন্য বৎস ও গোপবালক অবতার, মন্দরাচল ধারণ কর্বার জন্য কূর্ম অবতার, তদ্রূপ নিখিল মানবগণকে উদ্ধার করবার জন্য “নাম” অবতার—
ব্যক্তং হি ভগবানেব সাক্ষান্নারায়ণঃ স্বয়ম্।
কৃষ্ণাক্ষরস্বরূপেণ সুখেন পরিবর্ত্ততে।।
—নারদ পঞ্চরাত্র
শ্রীগুরুপ্রকাশন প্রকাশিত ‘শ্রী ওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (৩য় খণ্ড) থেকে