


লন্ডন: দু’দিন আগে অনুশীলনে চোট পেয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। প্র্যাকটিস ছেড়ে হাতে বরফ ঘষতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। অনেকের প্রশ্ন, তাহলে কি প্রথম টেস্টে ঋষভকে পাওয়া যাবে না? সেই আশঙ্কা উড়িয়ে প্র্যাকটিসে চেনা ছন্দে ঋষভ। বুধবার বেকেনহ্যামে টিম ইন্ডিয়ার অনুশীলনে ঝড় তুললেন বাঁ হাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তাঁর একের পর এক শট গিয়ে পড়ল মাঠ লাগোয়া বাড়ির উঠোন ও চালে। সেই বল কুড়িয়ে ফেরত দিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ঋষভের এই ফর্ম ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে যথেষ্ট স্বস্তির। ইংল্যান্ডের মাটিতে তাঁর দুটো টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে। আসন্ন সিরিজে মিডল অর্ডারে ঋষভই তাই বড় ভরসা।
কোচ গৌতম গম্ভীরের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। রোহিত শর্মার সঙ্গে বিরাট কোহলিও আচমকা লাল বলের ক্রিকেটকে আলবিদা জানিয়েছেন। ফলে নতুন করে টপ অর্ডার সাজাতে হচ্ছে তাঁকে। গত কয়েকদিনের অনুশীলনের ধারাতেই স্পষ্ট, যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে ওপেন করবেন লোকেশ রাহুল। গত অস্ট্রেলিয়া সফরের কম্বিনেশনও তাই ছিল। তিন নম্বরে ব্যাট করেছিলেন শুভমান গিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও কি একই পজিশনে তাঁকে ব্যাট করতে দেখা যাবে, না কি অন্য কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কোচের মাথায়? কোহলি চার নম্বরে খেলতেন। গিল চাইলে সেই পজিশনে নামতেই পারেন। সেক্ষেত্রে তিন নম্বরে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। বুধবারের অনুশীলনে গিলের সঙ্গে নেটে ব্যাট করতে দেখা গেল করুণ নায়ারকে। কয়েকদিন আগে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। টেস্টে তাঁর ত্রিশতরানও রয়েছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই করুণ নায়ারকে তিনে বা চারে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে তৈরি রাখা হচ্ছে সাই সুদর্শনকে। বাঁ হাতি ব্যাটারের আইপিএল পারফরম্যান্স চমকপ্রদ। তবে টি-২০’র সঙ্গে টেস্টের বিস্তর ফারাক। তাছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। সেই কারণে করুণ নায়ারের পাল্লা ভারি।
ভারতীয় দল নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি (১৩-১৬ জুন) ম্যাচ খেলবে বেকেনহ্যামে। তার ভিত্তিতেও প্রথম একাদশ গড়তে পারেন কোচ গম্ভীর। সিনিয়র ক্রিকেটারদের চোখরাঙানি সহ্য করতে হবে না আর। গিল নবাগত। নেতৃত্বের চাপ নিয়ে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরার চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় একেবারেই পাতে দেওয়ার মতো নয় (১৩.৬)। তাই অন্য কোনও বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে গিল চাইবেন নিজের পারফরম্যান্সর উন্নতি ঘটাতে।
বিলেতে গম্ভীরের টেস্ট ব্যাটিং গড় আরও খারাপ (১২.৮)। তিনি এখন হটসিটে। অতীতের কাঁটা তাঁকে সেভাবে বিঁধবে না। তবে গিলদের কাঁধে ভর করে তিনি চাইবেন অতীতের যন্ত্রণা ভুলতে। নিজের অভিজ্ঞতা ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে চাইবেন। যাতে একই সমস্যায় পড়তে না হয় ভারতের নতুন প্রজন্মকে।