নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কালীপুজোর দুদিন পরেও নৈহাটিতে বড়োমা দর্শনের ভিড় একটুও কমছে না। ভিড় বুধবার সকালেও ছিল উপচে-পড়া। দুপুরে ভিড় অবশ্য একটু পাতলা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে মানুষকে গায়ে গায়ে ভেসে যেতে হয়। যাঁরা বড়োমাকে দর্শন করতে চাইছেন, তাঁদের ঘোষপাড়া রোড থেকে নদীয়া জুটমিল হয়ে স্বপ্নবীথি পার্ক পেরিয়ে ফেরিঘাটের সামনে দিয়ে বড়োমার মন্দির যেতে হচ্ছে। বড়োমাকে দর্শন করে অরবিন্দ রোড ধরে আর বি সি রোডে পড়ছেন দর্শনার্থীরা। অরবিন্দ রোডে বড়োমা ছাড়াও সাতটি বড়ো উচ্চতার কালী প্রতিমা হয়। সেগুলি গাঁজাকালী, হকারকালী, বেচাকালী প্রভৃতি নামে পরিচিত। বড়োমার ভিড়ে অবশ্য তাঁদের পুজো পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তা স্বীকার করে নেন বড়োমা মন্দির কমিটির সভাপতি তথা নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মানুষের ঢল নেমেছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। অন্যদের সমস্যার দিকটা বুঝতে পারছি। কী করব? সকলের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।
মানুষের ভিড়ে নৈহাটিতে সমস্ত যান চলাচল এদিনও বন্ধ ছিল। নৈহাটি লোকাল কালীপুজোর দিন থেকে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়তে পারছে না—ছাড়ছে ৫ ও ৬ নম্বর থেকে। আগামী ২৪ তারিখ, শুক্রবার পর্যন্ত নৈহাটি লোকাল ১ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে ছাড়বে না। যাঁরা ট্রেনে বড়োমা দর্শনে আসছেন, তাঁরা সাবওয়ে ধরছেন। এখানে এতই ভিড় হচ্ছে যে, নৈহাটি পেরোনোর পরই ট্রেন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার বড়োমার বিসর্জন। দুবছর আগে বিসর্জনে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাই বিসর্জন নিয়ে খুবই চিন্তিত পুলিশ-প্রশাসন। এদিন বিকেল ৫টায় পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা সংশ্লিষ্ট সমস্ত পুলিশকর্তা, পুরসভা, বিভিন্ন দপ্তর এবং মন্দির কমিটিকে নিয়ে বৈঠক করেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘যেভাবে মানুষ আবেগ নিয়ে বড়োমার সামনে কান্নাকাটি করছেন, তা দেখে আমি অভিভূত! কলকাতায় অনেক বড়োপুজো সামলেছি। কিন্তু নৈহাটির ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। শুধু মাকে দর্শনই নয়, মানুষ তাঁদের মনের বাসনা জানাতে কিছুক্ষণ দাঁড়াতেও চাইছেন। তাঁরা পুজো দিচ্ছেন, এমনকি অঝোরে কাঁদছেনও! আমরা বিসর্জনের জন্য, সুন্দর পরিকল্পনা করছি। আশা করছি, কোনও সমস্যা হবে না।’
এদিনও বড়োমাকে দুবার ভোগ দিয়ে পুজো দেওয়া হয়। হয় আরতি। তবে স্থায়ী মন্দিরে নিত্যপুজো হলেও দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার বিসর্জনের পর শনিবার থেকেই মন্দির খুলে যাবে। এদিনও সিনেমা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বড়োমাকে দর্শন করতে আসেন বলে বড়োমা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত কয়েকবছরের তুলনায় এবছর ভিড় ছাপিয়ে গিয়েছে। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ ভার্চুয়ালি মাকে দেওয়া হয়েছে। বড়োমাকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আবেগ পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে।