নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নাগেরবাজার থানার আরএন গুহ রোডে পরপর আত্মহত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। রবিবার সন্ধ্যায় নবম শ্রেণির এক ছাত্র মায়ের বকুনির জেরে আত্মঘাতী হয়। মৃতের নাম আরিয়ান রায় (১৪)। অন্যদিকে, শুক্রবার থেকে নিখোঁজ থাকা গাড়ি চালকের ঝুলন্ত মৃতদেহ সোমবার সকালে বাড়ির অদূরে উদ্ধার হয়। মৃতের নাম স্বপনকুমার বৈদ্য (৪৭)।
আরিয়ানের বাবা অভিষেক রায় পেশায় অটো চালক। মা নার্সিংহোমে নার্সের কাজ করেন। আরিয়ান নাগেরবাজারের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। রবিবার বিকেলে দীর্ঘ সময় বাড়ি লাগোয়া মাঠে খেলছিল। তা নিয়ে মা বকাঝকা করেন। খেলা শেষ হলে বই নিয়ে বসতে বলেন। পড়ুয়া খেলার শেষে বাড়ি এসে নিজের ঘরে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
মৃত আরিয়ানের তিনটি বাড়ি পরই স্বপনকুমার বৈদ্যর ভাড়া বাড়ি। তিনি স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে ওই বাড়িতে এক দশকের বেশি সময় ধরে রয়েছেন। তিনি পেশায় গাড়ি চালক। তাঁর স্ত্রী জয়ন্তী পরিচারিকার কাজ করেন। শুক্রবার রাত দুটো নাগাদ তিনি বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। শনিবার নাগেরবাজার থানায় তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সোমবার সকালে বাড়ির অদূরে আরএন গুহ রোড লাগোয়া গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। কি কারণে মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোথাও খুন করে এখানে মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হল, তানিয়ে এলাকায় রহস্য দানা বেঁধেছে। তবে তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বপনবাবু এসআইআর নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না। তবে স্বপনবাবুর বাবা ও মায়ের নাম ওই তালিকায় ছিল কি না, তাঁদের আসল বাড়ি কোথায় সেইসব তথ্য ওই গৃহবধূ পুলিশকে এখনও দেননি। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলার সুরজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, একই জায়গায় পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী শোকাহত। স্কুল পড়ুয়া ছেলে পড়ার জন্য মায়ের বকা খেয়ে এমন ঘটনা ঘটাবে কল্পনাও করতে পারছি না। স্বপনবাবুর মৃত্যু নিয়ে আমরাও ধোঁয়াশায় রয়েছি।