ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ভোট-বঙ্গে জমে উঠেছে প্রচার। মিছিল-মিটিংয়ে চলছে জোর টক্কর। দম ফেলার ফুরসত নেই প্রার্থী থেকে নেতা-কর্মীদের। এরইমাঝে উত্তরবঙ্গে হাজির একদল নাগা সন্ন্যাসী! কেউ যোগীরাজ্য থেকে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে এসেছেন। কেউ আবার এসেছেন উত্তরাখণ্ড থেকে। ভোটের ক’দিনের জন্য আখড়া গড়েছেন শিলিগুড়ি কিংবা জলপাইগুড়িতে। কখনও স্কুটারে, কখনও বা গাড়ি ভাড়া করে চক্কর কাটছেন ভোটের ময়দানে। ঘুরছেন প্রার্থীদের দুয়ারে দুয়ারে। আগে থেকে ‘খবর’ জোগাড় করে কখনও আবার সাধুর দল পৌঁছে যাচ্ছে মিটিং-মিছিলে। প্রার্থীদের কপাল পড়ে বলে দিচ্ছেন তাঁদের ‘ভোট-ভবিষ্যৎ’! বিনিময়ে কোথাও সারছেন দুপুরের আহার। কোথাও আবার ভিনরাজ্যের ওই সাধুদের ঝুলি ভরছে ফলমূল কিংবা প্রণামিতে। সুযোগ বুঝে বাড়তি ‘আবদার’ করতেও ছাড়ছেন না তাঁরা। ভরে নিচ্ছেন গাড়ির জ্বালানি!
শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ি আসনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিলেন নাগা সাধু অরুণ গিরি। উত্তরপ্রদেশের রামপুর থেকে গাড়ি নিয়ে এসেছেন তিনি। বললেন, ভোটের সময় প্রার্থীরা সাধুসন্তদের আশীর্বাদ চান। সেজন্যই এসেছি। কার কপালে কী লেখা আছে, তা বলে দিচ্ছি। বিনিময়ে যে যা প্রণামি দিচ্ছেন, তা গ্রহণ করছি। ভোটের ক’দিন এদিক সেদিক ঘুরে কামাখ্যায় চলে যাব।
এদিন জলপাইগুড়ি শহরে স্কুটার নিয়ে ঘুরতে দেখা গেল ভগবত গিরি নামে গায়ে ছাই মাখা আর এক সাধুকে। বললেন, হরিয়ানার শোনপথ থেকে এসেছি আমরা। আখড়া করে রয়েছি জলপাইগুড়িতে। কখনও স্কুটার, কখনও গাড়ি ভাড়া করে ঘুরছি। প্রার্থীদের বাড়ি যাচ্ছি। তাঁদের আশীর্বাদ করছি। কোনো কোনো প্রার্থী আবার মনোনয়নে সঙ্গে থাকতে বলছেন।
আজ, শনিবার মনোনয়ন জমা দেবেন জলপাইগুড়ি আসনের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। তার আগে এদিন নাগা সাধুর আশীর্বাদ নেন তিনি। বলেন, রোজই আমার বাড়িতে সাধুসন্তরা আসেন। যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করি তাঁদের। উত্তরপ্রদেশ ও হিমাচলপ্রদেশের একদল সাধু এদিন বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁদের আশীর্বাদ নিয়েছি। তবে আমার আসল শক্তি গণদেবতা। তাঁদের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে আছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সর্বধর্মের বার্তা দিয়ে শোভাযাত্রা করে মনোনয়ন জমা দিতে যাব।
প্রার্থীদের খোঁজ মিলছে কীভাবে? উত্তরপ্রদেশের এক সাধুবাবা বলেন, আমাদের কিছু খবর রাখতে হয় না। গঙ্গা যেমন নিজের ছন্দে বয়ে চলে, আমরাও সেভাবেই পথ চলি। চলার পথেই দেখা হয়ে যাচ্ছে প্রার্থীদের সঙ্গে। যেখানে মন বসছে, সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে যাচ্ছি।