নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দেড় মাস আগে নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সদস্যরা অনাস্থা আনায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন মহুয়া মৈত্র। তৃণমূলের সদস্যদের ‘গদ্দার’, ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু মহুয়া মৈত্রের গদ্দার তত্ত্ব বুমেরাং হল বলে মনে করেছে রাজনৈতিক মহল। কারণ বুধবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচনের দিন বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ঘনিষ্ঠ, কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন মহিলা সভানেত্রী তথা খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মল্লিকা চট্টোপাধ্যায়।
এছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের ঘনিষ্ঠ কর্মাধ্যক্ষ বিধান ঘোষ, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি কর্মাধ্যক্ষ তমিজউদ্দিন শেখ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এঁরা সকলেই অনাস্থার বিপক্ষে ছিলেন। এতেই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অনাস্থার পক্ষে থাকা নজরুল বিশ্বাস, শানন্যা বিশ্বাস, মীরা ওরাং সহ প্রায় ৮ জন সদস্য শিবির বদলে বিজেপিকে সমর্থন করেন। তৃণমূলের মোট ১৫ জন সদস্য উপস্থিত থেকে পদ্ম শিবিরের প্রার্থকে ‘নৈতিক সমর্থন’ জানিয়েছেন। যা নিয়ে জেলাজুড়ে শোরগোল পড়েছে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, সাংসদ যাঁদের গদ্দার বললেন তাঁরাই থাকলেন ‘গৃহবন্দি’ হয়ে। আর সাংসদের চোখে যাঁরা দলের অনুগত, তাঁরা বিজেপির প্রার্থীকে সমর্থন করলেন।সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলে, ‘যেসব বেইমানি গদ্দার টাকার ও ক্ষমতার লোভে দলকে না জানিয়ে অনাস্থা এনেছিল তারা এক্সপোজ হল। ওদের উদ্দেশ্য প্রথম থেকেই ছিল বিজেপিকে বসানো। কোথায় এখন প্রণয়কুমার ঘোষ ও সোনামনির জুটি? মানুষ দেখুক।’
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, ‘বিবেক ভোটের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শামিল হয়েছিলেন। সকলে বিজেপির প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন।’
নদীয়া জেলা পরিষদে মোট সদস্যর সংখ্যা ৫২। যার মধ্যে ৪৬ জন তৃণমূলের এবং ৬ জন বিজেপির। গত জুন মাসে ১৭ তারিখ তৃণমূলের ২৭ জন সদস্য মহুয়া মৈত্র ঘনিষ্ঠ সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মিরের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। তৃণমূলের দলনেতা দীপক বসু, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ প্রণয়কুমার ঘোষ চৌধুরী, সহকারী সভাধিপতি সজল বিশ্বাস সহ ২৭ জন সদস্যকে কলকাতার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ‘গদ্দার’ আখ্যা দেন। দল বিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে তাঁদের শোকজও করেছিলেন সাংসদ। তিনি বলেছিলেন, ‘নদীয়া জেলা পরিষদের ২৭টি গদ্দার ২-৩টি চোর ডাকাতের টোপ খেয়ে দলের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন।’ যদিও অপসারণের সময় দেখা যায় তৃণমূলের ৩১ জন সদস্য প্রাক্তন সভাধিপতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।
যদিও বুধবার সেই সমস্ত হিসেবে নিকেশ ওলটপালট হয়ে যায়। সকালের দিকে দেখা যায়, বিজেপি ও তৃণমূলের একাধিক সদস্য একই গাড়ি থেকে নেমে জেলা পরিষদের প্রবেশ করেছেন। এমনকী, মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস যে মামলায় জেল খেটেছেন সেই মামলায় নাম থাকা জেলা পরিষদের এক সদস্যকেও গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায়। অন্যদিকে অনাস্থা আনা তৃণমূল শিবিরের নেতাদের কাউকেই এদিন দেখা যায়নি।