Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নদীয়া, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ: প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজকে জেলা হাসপাতাল ‘ভাড়া’ দিয়ে সরকারের আয় ৩০ কোটিরও বেশি

তিন জেলা হাসপাতাল প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলিকে ‘ভাড়া’ দিয়ে সরকারের তিন বছরে আয় হল ৩০ কোটির বেশি! নদীয়া, হাওড়া এবং মুর্শিদাবাদ—এই তিন জেলায় তিনটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে।

নদীয়া, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ: প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজকে জেলা হাসপাতাল ‘ভাড়া’ দিয়ে সরকারের আয় ৩০ কোটিরও বেশি
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিন জেলা হাসপাতাল প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলিকে ‘ভাড়া’ দিয়ে সরকারের তিন বছরে আয় হল ৩০ কোটির বেশি! নদীয়া, হাওড়া এবং মুর্শিদাবাদ—এই তিন জেলায় তিনটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। ২০২৩-২৪ সাল থেকে একটি প্রকল্প শুরু করে রাজ্য। নদীয়া এবং হাওড়ায় প্রকল্পটি সেই বছরই চালু হয়। মুর্শিদাবাদে চালু হয় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে। প্রকল্পটি হল, কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পিপিপি মডেলে মেডিক্যাল কলেজ করতে চাইলে যতদিন না তারা নিজেদের হাসপাতাল ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারছে, ততদিন সেই জেলার নিকটবর্তী সরকারি জেলা হাসপাতাল তারা ‘ভাড়া’ নিতে পারবে। ভাড়াও নেহাত কম নয়! বেড পিছু মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা! রাজ্যের তিন জেলায় তিনটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ প্রকল্পে অংশ নেয়। যদিও সরকারি সম্পত্তির এমন ব্যবহার নিয়ে প্রকল্প শুরুর সময় থেকেই একাধিক চিকিৎসক সংগঠন আপত্তি জানিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের অবশ্য সাফাই, এই চুক্তি মোটেই ‘লিজ’-এর চুক্তি নয়। রাজ্যে আরও মেডিক্যাল কলেজ যাতে হতে পারে, সেই জন্যই এই পদক্ষেপ। মেডিক্যাল কলেজ চালুর জন্য পাশ্ববর্তী হাসপাতাল ভবন প্রয়োজন, যা তৈরি যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই কলেজ চালু করতে এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা মাত্র। এর ফলে হবু ডাক্তাররা জেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল শিক্ষার ক্লিনিক্যাল ট্রেনিং নিতে পারছেন। এনএসসিকেও বলা যাচ্ছে, হাসপাতাল ভবন আছে। 

Advertisement

দপ্তর সূত্রের খবর, আগামী শিক্ষাবর্ষের মধ্যে রাজ্যে আরও ৫টি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ চালুর সম্ভাবনা আছে। ফলে ‘ভাড়া’য় দেওয়া জেলা হাসপাতালের সংখ্যাও বাড়তে পারে। বাড়তে পারে এই খাতে রা঩জ্যের আয়ও। যদিও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় এসইউসি সমর্থিত মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার (এমএসসি) সহ বেশ কিছু চিকিৎসক সংগঠন। এমএসসি’র রাজ্য সম্পাদক ডাঃ বিপ্লব চন্দ্র বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে সরকারের আয় বাড়ানো কোনও কাজের কথা নয়। বরং সরকার অনুদান নির্ভর অপচয় কমিয়ে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো জনকল্যাণমূলক দপ্তরের কাজে ব্যয় করুক।’
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে পঞ্চায়েত এলাকায় জেলা হাসপাতালে বেড পিছু ১০ হাজার এবং পুরসভা এবং কর্পোরেশন এলাকায় যথাক্রমে ১২ হাজার এবং ১৫ হাজার টাকা প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হয়। ২০২৩-২৪ সাল থেকে নদীয়ার রানাঘাটে পিপিপি মডেলে ১৫০ শয্যার একটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ চালু হয়। তারা ৩০০ বেডের জেলা হাসপাতাল ‘ভাড়া’ নেওয়ায় সে বছর সেপ্টেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্যকে। হাওড়াতে একটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজও কমবেশি প্রায় ১২ কোটি ভাড়া দিয়েছে রাজ্যকে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে ৬০৫ বেডের জেলা হাসপাতালের ‘ভাড়া’বাবদ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি টাকা রাজ্যকে দিয়েছে সেখানকার প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ। চুক্তির তিন বছর শেষ হলেই ‘ভাড়া’ বেড়ে হবে দ্বিগুণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ