নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে স্বনির্ভর দলের মহিলাদের লোন দিতে বাড়তি জোর দিল রাজ্য সরকার। গোষ্ঠীর মেয়েরা যাতে ব্যক্তিগতভাবেও সহজেই লোন পান, তা দেখার জন্যই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। কোন জেলায় কতজন মহিলাকে লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, তার লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিয়েছে সরকার। জানা গিয়েছে, দু’হাজার ৩৬৪জন স্বনির্ভর দলের মহিলা সদস্যকে এই লোন দেওয়ার টার্গেট দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
কিন্তু বাস্তব অত্যন্ত কঠিন। এই লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলির গড়িমসির দিকটি বারবার সামনে এসেছে। একটি পরিসংখ্যান থেকেই তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লোন পেতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৩৫৭জন মহিলা আবেদন করেছিলেন। ব্যাঙ্কের তরফে লোন অনুমোদন হয়েছে মাত্র ৮৭টি। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডে রাজ্য সরকার গ্যারেন্টার। ব্যাঙ্ক ১২ শতাংশ হারে সুদ নিলেও, সময়মতো ঋণ শোধ করতে পারলে রাজ্য সরকার আট শতাংশ সুদ ফেরত দেয়। অর্থাৎ, লোনের জন্য মাত্র চার শতাংশ সুদ গুণতে হবে। এই অবস্থায় অনেকেই ব্যবসা করে স্বনির্ভর হতে চান। কিন্তু ব্যাঙ্ক সময়মতো লোন না দেওয়ায় অনেকেরই সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন বারবার বৈঠক করেছে। এখন দেখার, এবারের রাজ্য সরকারের দেওয়া বিশাল টার্গেট কীভাবে পূরণ করেন প্রশাসনের কর্তারা।
কিন্তু কেন গোষ্ঠীর মহিলাদের ব্যক্তিগত লোন দিতে উদ্যোগী হল সরকার? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্তা জানান, স্বনির্ভর দলে ১০জন বা তার বেশি সদস্য থাকেন। তাঁদের অনেকেরই লোন নেওয়ার উদ্যোগ থাকে না। দু’-একজন লোন নিতে চাইলেও অনেকের অনীহায় তা সম্ভব হয় না। অনেকসময় গোষ্ঠীর লোন হলেও বহু মহিলা অপ্রয়োজনে পাওয়া সেই টাকা থেকে মোবাইল, টিভি কিনছেন। ফলে, মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। তাই যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের লোন দিতে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।