ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন চেয়ে শীঘ্রই কেন্দ্রকে চিঠি নবান্নর
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। উত্তরবঙ্গে ভুটান সীমান্তবর্তী এই তিন জেলায় বন্যার কারণই হল ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জল। জলঢাকা, ডায়না, তোর্সা, রায়ডাক, সঙ্কোশের মতো বড়ো ও মাঝারি মিলিয়ে প্রায় ৫৬টি নদী এবং ১৬টি ঝোরার জলে কার্যত প্রতিবছরই বানভাসি হয় এই তিন জেলা। খাড়াই পাহাড়ি নদী বেয়ে জল নেমে আসতে সময় লাগে মাত্র চার ঘণ্টা। তা সত্ত্বেও এই নদীগুলি বয়ে কোনও জায়গায় কত জল আসতে পারে তার আগাম সতর্কতা পাওয়ার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোই নেই। যেমন নয়া রেনগেজ স্টেশন স্থাপন করা। এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে ভারত এবং ভুটানের যৌথ বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের মধ্যে। যে দলে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের সেচদপ্তরের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু, আলোচনার ভিত্তিতে উঠে আসা সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয় না। কারণ এর জন্য প্রয়োজন মন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে গঠিত একটি স্থায়ী কমিশন। আর এই কারণেই ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন তৈরির দাবি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ। এ নিয়ে উত্তরবঙ্গের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আবহে এই কমিশন তৈরি করা নিয়ে কেন্দ্রের উদাসীনতার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে শীঘ্রই রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে চিঠি লেখা হবে। ওইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয় বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্যের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি আমরা যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে দেখছি। ফলে এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে দ্রুত বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হবে।

Advertisement

সূত্রের খবর, গত এপ্রিল-মে মাসেই ভুটানে বৈঠকে বসেছিল জয়েন্ট গ্রুপ অব এক্সপার্টস। কিন্তু, তাতে কাজের কাজ কী হল? রিভার কমিশন না-থাকায় তাঁদের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া সম্ভব হয় না। যেমন বলা হয়েছিল আরও ৫৫টি রেনগেজ স্টেশন তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আবার, ভুটান পাহাড়ে ডলোমাইট খননের জেরে হওয়া পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কীভাবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।  কারণ, এর জেরে একরের পর একর চাষের জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। 
যেহেতু বিষয়টি দুই দেশের, সেই কারণে রাজ্যের পক্ষে সরাসরি ভুটানের সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই বারবার এই ইস্যুতে নয়াদিল্লির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বাংলাকে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে চিঠি লিখতে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ কাজ চলছে নবান্নে। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানান, আমরা এই ইশ্যু সংক্রান্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে নিচ্ছি। কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলার আগে সেচদপ্তরের সঙ্গেও কথা বলে নেওয়া হচ্ছে।