Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যকে বাইরে রেখে গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টন চুক্তির সিদ্ধান্ত নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল নবান্ন

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। অর্থাৎ এই চুক্তির পুনর্নবীকরণের জন্য হাতে মাত্র আর চার মাস সময় আছে।

রাজ্যকে বাইরে রেখে গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টন চুক্তির সিদ্ধান্ত নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল নবান্ন
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা-পদ্মা জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। অর্থাৎ এই চুক্তির পুনর্নবীকরণের জন্য হাতে মাত্র আর চার মাস সময় আছে। কিন্তু এই চুক্তির সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ। তাই রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি পুনর্নবীকরণের শর্ত নির্ধারণের সময় যেন পশ্চিমবঙ্গকে বাইরে না রাখা হয়। 

Advertisement

প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, ফারাক্কা ব্যারেজ হয়ে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে জল প্রবাহিত হয়। পানীয় জল এবং কলকারখানার জল সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তি কাঠামোটি শুষ্ক মরশুমে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে জলের জোগান অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের শহর ও গ্রামাঞ্চলে দৈনন্দিন ব্যবহার এবং শিল্পক্ষেত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহ সুনিশ্চিত হয়। তাই এই চুক্তি পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ যাতে কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে নবান্ন। সেই কারণে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে হওয়া কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠকে সেচ বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে গঙ্গা-পদ্মা চুক্তি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে রাজ্য। 
প্রসঙ্গত, জল বণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে রাজ্যের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা নিয়ে সরব হয়েছিল পূর্বতন সরকারও। পালাবদলের পর নয়া সরকারও গঙ্গা-পদ্মা চুক্তির ব্যাপারে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয়। তবে বর্তমানে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকায় পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থের বিষয়টি কেন্দ্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। 
কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর সচল থাকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে ফারাক্কা ব্যারেজ হয়ে হুগলি নদীতে জলের জোগানের উপর। এই বন্দর কলকাতা তথা রাজ্যের বড়ো অংশের অর্থনীতির খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নয়া চুক্তির ফলে কোনোভাবেই যাতে গ্রীষ্মে পশ্চিমবঙ্গকে সমস্যায় না পড়তে হয়, তা মাথায় রাখার জন্য আগেভাগে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। 
প্রশাসনিক মহলে জানাচ্ছে, এই চুক্তি হবে দুই দেশের মধ্যে। তার আগে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন সহ প্রশাসনিক স্তরের একাধিক বৈঠক প্রয়োজন পড়ে। যার কয়েকটি হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা এখনো বাকি। আর তার আগেই রাজ্য এবিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেওয়ায়, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।- ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ