প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যের সমবায় সমিতিগুলির বিভিন্ন স্তরে নিযুক্ত সাড়ে দশ হাজার কর্মীর একসঙ্গে চার বছরের সরকারি অনুদান বা গ্রান্টের অনুমোদন দিল নবান্ন। ফলে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাঁদের এই প্রাপ্য মিটিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যের সমবায় সমিতিগুলির বিভিন্ন স্তরে নিযুক্ত সাড়ে দশ হাজার কর্মীর একসঙ্গে চার বছরের সরকারি অনুদান বা গ্রান্টের অনুমোদন দিল নবান্ন। ফলে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত তাঁদের এই প্রাপ্য মিটিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
সমবায় সমিতির এই কর্মীদের কাজে উৎসাহ দিতে প্রতিমাসে দু-হাজার টাকা করে একটি বিশেষ গ্রান্ট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে বহুদিন ধরে। তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক সমস্যার কারণে ২০২২ সাল থেকে এই কর্মীদের গ্রান্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি। সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। খবর পেয়েই তিনি সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেন পদস্থ কর্তাদের। এই কর্মীদের বকেয়া মেটানো নিয়ে তৎপরতা শুরু হয় নবান্নে এবং সমবায় দপ্তরের অন্দরে। সম্প্রতি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এই কর্মীদের বকেয়া মেটানোর পাশাপাশি আগামী এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিমাসের টাকা একসঙ্গে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে তাঁরা দুমাসের টাকা অগ্রিমও পেয়ে যাবেন বলেই প্রশাসনিক মহল জানাচ্ছে। এর জন্য নবান্নের তরফে ছাড়া হয়েছে একসঙ্গে ৬৬ কোটি টাকা, যা সমবায় সমিতির কর্মীদের এই অনুদান দেওয়ার ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল। এই কর্মীরা সকলেই ২০১৭ সালের আগে কাজে যোগ দিয়েছেন।
এই বিষয়ে রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলে, বর্তমান রাজ্য সরকার সমবায় ব্যাবস্থাকে জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সমবায়ের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এতে কর্মীরা তো উপকৃত হবেনই, ওইসঙ্গে সমবায়ের কাজও আরো ভালো হবে।
এই সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ও সমবায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আশিস চক্রবর্তীও। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী যে মাটির মানুষের কথা ভাবেন তা ফের একবার প্রমাণিত হল। সেইসঙ্গে সমবায় কর্মচারীদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও মুখ্যমন্ত্রী ও দপ্তরের মন্ত্রীকে এর জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ সমবায় সমিতিতে নির্বাচন সম্পূর্ণ করিয়ে স্থায়ী বোর্ড গঠন করা সম্ভব হয়েছে। নতুন বোর্ডের সদস্যদের প্রশিক্ষণও চলছে জোর কদমে। তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রান্ট সংক্রান্ত এই পদক্ষেপ সমবায়ের মাধ্যমে আরো বেশি মানুষের কাছে বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের।