নিজস্ব প্রতিনিধি, নবগ্রাম: দুপুর ২টো। কালো মেঘে ঢেকে আছে নবগ্রামের আকাশ। ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। ভোলাডাঙা আদিবাসী ফুটবল ময়দানের আকাশে মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানি। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে মোটা স্টিলের ফ্রেমে বাঁধা টেন্ট ও মঞ্চ রীতিমতো দুলছে। মঞ্চের পিছনেই হেলিপ্যাডে নামার কথা মমতার। কিন্তু বৃষ্টির দাপটে হেলিপ্যাড জল থইথই। সভাস্থলে বসার জায়গাতেও জল জমে গিয়েছে। সভায় আসা মানুষ তখন মাথা বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত। প্রকৃতির তাণ্ডব দেখে তৃণমূলের নেতারা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করতে থাকেন, আপনারা নিরাপদ স্থানে চলে যান। যাদের কাছে বাড়ি, তারা ফিরে যান। কেউ গাছের তলায় দাঁড়াবেন না। মানুষ রাস্তা ও গাছতলা ছেড়ে সভাস্থলে এসে দাঁড়ালেন। মমতার সভার আচ্ছাদন যেন মায়ের আঁচল। সেখানেই জড়সড় হয়ে বসে মমতার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন সকলে। ততক্ষণে মুর্শিদাবাদের বড়ঞাতে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের হেলিকপ্টার নবগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রবল ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে কপ্টারের মুখ ঘুরিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে ফের বড়ঞাতে ফিরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর তাঁর কাছে খবর যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে তাঁকে দেখার অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ। এরপর আর দেরি না করে দুর্যোগের মধ্যেই সড়ক পথে নবগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ৪৯ কিমি পাড়ি দিয়ে তিনি যখন নবগ্রামে এলেন তখন দুর্যোগ কেটে পশ্চিমের আকাশে সোনালি আভা। প্রায় পৌনে দু’ ঘণ্টা জলে ভিজে মমতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আট থেকে আশি পুরুষ ও মহিলারা। সভাস্থলে এসে সরার কাছে ক্ষমা চেয়ে মন জয় করে নিলেন মমতা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য যে ‘ডি জোন’ করা হয় এদিন তা ছিল না। দুর্যোগ থেকে বাঁচতে মানুষ টেন্টের নীচে চলে আসেন। মমতার সঙ্গে সভায় হাজির জনতার দূরত্ব ঘুচে যায় নিমেষে। মাত্র একহাত দূরে দাঁড়িয়ে মমতার ভাষণ শোনে জনতা। এক ঘণ্টার বেশি সময় তিনি নবগ্রামের মানুষের সঙ্গে কাটালেন এবং সুখ দুঃখের ভাগীদার হলেন।



