Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবগ্রাম: দুর্যোগ ঘোচাল জনতার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দূরত্ব, মুছে গেল নিরাপত্তার ‘ডি জোন’

দুপুর ২টো। কালো মেঘে ঢেকে আছে নবগ্রামের আকাশ। ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। ভোলাডাঙা আদিবাসী ফুটবল ময়দানের আকাশে মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানি।

নবগ্রাম: দুর্যোগ ঘোচাল জনতার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দূরত্ব, মুছে গেল নিরাপত্তার ‘ডি জোন’
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নবগ্রাম: দুপুর ২টো। কালো মেঘে ঢেকে আছে নবগ্রামের আকাশ। ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। ভোলাডাঙা আদিবাসী ফুটবল ময়দানের আকাশে মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানি। কিছুক্ষণের মধ্যে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে মোটা স্টিলের ফ্রেমে বাঁধা টেন্ট ও মঞ্চ রীতিমতো দুলছে। মঞ্চের পিছনেই হেলিপ্যাডে নামার কথা মমতার। কিন্তু বৃষ্টির দাপটে হেলিপ্যাড জল থইথই। সভাস্থলে বসার জায়গাতেও জল জমে গিয়েছে। সভায় আসা মানুষ তখন মাথা বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত। প্রকৃতির তাণ্ডব দেখে তৃণমূলের নেতারা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করতে থাকেন, আপনারা নিরাপদ স্থানে চলে যান। যাদের কাছে বাড়ি, তারা ফিরে যান। কেউ গাছের তলায় দাঁড়াবেন না। মানুষ রাস্তা ও গাছতলা ছেড়ে সভাস্থলে এসে দাঁড়ালেন। মমতার সভার আচ্ছাদন যেন মায়ের আঁচল। সেখানেই জড়সড় হয়ে বসে মমতার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন সকলে। ততক্ষণে মুর্শিদাবাদের বড়ঞাতে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের হেলিকপ্টার নবগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রবল ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে কপ্টারের মুখ ঘুরিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে ফের বড়ঞাতে ফিরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর তাঁর কাছে খবর যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে তাঁকে দেখার অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ। এরপর আর দেরি না করে দুর্যোগের মধ্যেই সড়ক পথে নবগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ৪৯ কিমি পাড়ি দিয়ে তিনি যখন নবগ্রামে এলেন তখন দুর্যোগ কেটে পশ্চিমের আকাশে সোনালি আভা। প্রায় পৌনে দু’ ঘণ্টা জলে ভিজে মমতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আট থেকে আশি পুরুষ ও মহিলারা। সভাস্থলে এসে সরার কাছে ক্ষমা চেয়ে মন জয় করে নিলেন মমতা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য যে ‘ডি জোন’ করা হয় এদিন তা ছিল না। দুর্যোগ থেকে বাঁচতে মানুষ টেন্টের নীচে চলে আসেন। মমতার সঙ্গে সভায় হাজির জনতার দূরত্ব ঘুচে যায় নিমেষে। মাত্র একহাত দূরে দাঁড়িয়ে মমতার ভাষণ শোনে জনতা। এক ঘণ্টার বেশি সময় তিনি নবগ্রামের মানুষের সঙ্গে কাটালেন এবং সুখ দুঃখের ভাগীদার হলেন। 

Advertisement

এদিন নবগ্রামে দলীয় প্রার্থী প্রণবচন্দ্র দাসের হয়ে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী ছাড়াও সেখানে হাজির ছিলেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি খলিলুর রহমান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, লালগোলা বিধায়ক মহম্মদ আলি, ব্লক সভাপতি এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ। তবে নবগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডলকে এদিন দেখা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, এত ঝড়বৃষ্টি এবং প্রকৃতির তাণ্ডব  আমাকে আটকাতে পারেনি। আর বিজেপি আটকাতে পারবে? ভগবান আল্লার দোয়ায় যখন আমি বেঁচে ফিরেছি তখন শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। 
এদিন দুর্যোগ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, হেলিকপ্টারের পাইলটরা বলল কিছুতেই আর যাওয়া যাবে না। তখন আমি ফের বড়ঞাতে নামলাম। হেলিকপ্টার থেকে নেমে গাড়ি করে আপনাদের আশীর্বাদ এবং দোয়াতে এখানে এসে পৌঁছলাম। এতটাই ঝড়বৃষ্টি হয়েছে যে এক হাঁটু কাদাজলে আমার ভাইবোনেরা দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য। আপনাদের জন্য আমি দুঃখিত। প্রকৃতি তো আমাদের হাতে নেই। আর বাংলায় এমন সময় নির্বাচন হয়, মানুষের এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আপনাদের মুখগুলি আমি দেখতে পেয়েছি এবার আমার শান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আমার মা বোনেরা, ছোট্ট ছোট্ট ভাই দাদারা যখন দাঁড়িয়ে থাকে, তখন দুর্যোগ ঠিক কেটে যায়। এদিনও তাই হল। এদিন সুর মিলিয়ে মমতা বলেন, হল ঝড়, এল বৃষ্টি, আটকানো গেল না। রয়ে গেল বাংলার সৃষ্টি। এটাই বাংলার মানুষের কৃষ্টি। আর অন্ধকার থেকে আলো ফুটল। সভাস্থল করতালিতে ফেটে পড়ে। শেষে মাদলের তালে আদিবাসী ভাইবোনদের সঙ্গে নেচে গাড়ি করেই বহরমপুর ফেরেন মমতা। শিল্পতালুকে একটি বেসরকারি হোটেলে রাত্রিবাস করে বৃহস্পতিবার সগরদিঘি ও সূতিতে দু’টি জনসভা করবেন মমতা।  বৃষ্টিতে ভিজে নবগ্রামে হাজার হাজার মানুষের ভিড় মমতার সভায়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ