Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপ্রিয় নন্দতেই ভরসা নবদ্বীপের বৈষ্ণব সমাজের

হিংসা নয়, প্রেম বিলিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। সেই প্রেমের আদর্শে, শান্তির পক্ষে অবিচল থাকলে চায় নবদ্বীপের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ।

শান্তিপ্রিয় নন্দতেই ভরসা নবদ্বীপের বৈষ্ণব সমাজের
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: হিংসা নয়, প্রেম বিলিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। সেই প্রেমের আদর্শে, শান্তির পক্ষে অবিচল থাকলে চায় নবদ্বীপের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ। তার জন্য এলাকার বিধায়ক হিসেবে বৈষ্ণব সমাজের প্রথম পছন্দ নবদ্বীপের ‘নন্দ’ অর্থাৎ পুণ্ডরীকাক্ষ সাহাকেই। রাখঢাক না করেই চৈতন্যের সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শে দীক্ষিত বৈষ্ণবকুল সাফ বুঝিয়ে দিয়েছে, শান্তিকামী মানুষ পুণ্ডরীকাক্ষবাবুর পাশেই তাঁরা রয়েছেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নবদ্বীপকে শান্ত রাখা ও গৌর-নিতাইয়ের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা ঐক্য গড়ে তুলবেন। এ নিয়ে পুণ্ডরীকাক্ষের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছে বৈষ্ণব সমাজ। তাঁদের এই অবস্থান বিজেপির পক্ষে মোটেও সুখকর নয় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। 

Advertisement

যদিও বুধবার বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেছেন, ‘ওঁর (পুন্ডরীকাক্ষ) বিরুদ্ধে আমি কিছু বলব না, এটা আমার নীতিগত অবস্থান। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করি উনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। তবে ওঁকে সামনে দাঁড় করিয়ে কিছু মানুষ লুট করছেন, সেটা বন্ধ হওয়া উচিত।’ 
বামফ্রন্ট  প্রার্থী স্বর্ণেন্দু সিংহ বলেছেন, ‘শান্তি-সম্প্রীতি আর ভালোবাসা, সব মানুষেরই কাম্য। আমাদের চৈতন্যদেব সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। কিন্তু, নবদ্বীপের যুবদের কর্মসংস্থান সহ বহু সমস্যার সমাধানে তৃণমূল বিধায়ক চূড়ান্ত ব্যর্থ।’ চৈতন্যভূমে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নরম হিন্দুত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন বিজেপির দিল্লির নেতারা। সে কারণে নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী গোঁসাই পরিবারের সন্তান শ্রুতিশেখরের উপরই বাজি ধরেন তাঁরা। শ্রুতিশেখর বিশ্বহিন্দু পরিষদের প্রাক্তন নেতা হলেও প্রচারের প্রথম থেকেই ‘উগ্র হিন্দুত্ব’ বর্জন করে চলছেন। এমনকী, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের উপরও তিনি ভক্তিবাদ দর্শন আরোপ করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় কর্মীদের। এসব সত্ত্বেও নবদ্বীপে সাধুসন্তদের একটা বড় অংশের তৃণমূল প্রার্থীর প্রতি দুর্বলতা দেখানোর বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা।    
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নবদ্বীপের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ পুণ্ডরীকাক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে। সেখানে বিভিন্ন মঠ মন্দিরের সাধুসন্ত বৈষ্ণব এবং অধ্যক্ষরা ছিলেন বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকেই নন্দকে পরম গৌরভক্ত এবং বৈষ্ণবদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টায় নবদ্বীপে শান্তি ফিরেছে, এমন কথাও বলা হয়। আর সেই শান্তির সুরক্ষায় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নয়, ব্যক্তি পুণ্ডরীকাক্ষই ভরসাযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমাজের কার্যকরী সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে গিয়ে সাধুসন্ত ও সেবাইতের কাছে গিয়ে ওঁকে সমর্থন করার বার্তা দেওয়া হবে। ওঁর হাত ধরেই নবদ্বীপে শান্তি ফিরেছে। চৈতন্যভূমের সমস্ত মঠ-মন্দিরকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এক সূত্রে গেঁথেছেন। ওঁর চেষ্টাতেই নবদ্বীপ আজ হেরিটেজ।’ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের সাধারণ সম্পাদক তথা গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরের অধ্যক্ষ অদ্বৈতদাস বাবাজি মহারাজ বলেন, ‘পুণ্ডরীকাক্ষবাবু নবদ্বীপ ধামকে সুরক্ষিত রেখেছেন। তাই বৈষ্ণব সমাজের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়।’ সমাজের কোষাধ্যক্ষ তথা বউবাজার বড় পাঠকবাড়ির চিন্তামণি কুঞ্জের কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ভজন সাধন নিয়ে থাকি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। পুণ্ডরীকাক্ষবাবু নিপাট একজন গৌরভক্ত। ওঁর এই পরিচয়ই আমাদের কাছে বড়।’ সমাজের মহাসচিব কিশোরকৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, অতীতে বহু রাজনৈতিক অশান্তির সাক্ষী নবদ্বীপবাসী। পুণ্ডরীকাক্ষবাবুর প্রচেষ্টাতেই এখানে শান্তি ফিরেছে। সেটা ভুলি কী করে? অন্য দলের যাঁরা দাঁড়িয়েছেন, তাঁরাও ভালো। উনি নিজের প্রশাসনিক দক্ষতায় নবদ্বীপকে শান্ত রেখেছেন। সেটাই আমাদের ভক্তিবাদ আন্দোলনের বড় প্রাপ্তি।   নবদ্বীপের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী  পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ