Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপ-মাথাপুর রোড: ওপার বাংলার ঐতিহ্য বহন করে মনসা পুজো হয়ে থাকে দত্ত বাড়িতে

শতাধিক বছরের পুরনো নবদ্বীপ-মাথাপুর রোডের দত্ত বাড়ির মনসা পুজো। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় দত্ত পরিবারের গৃহকর্তা স্বর্গীয় ব্রজেশ্বর দত্ত এই পুজোর সূচনা করেন। সেই সময়ের বাংলাদেশে খুবই জাঁকজমক করে এই পুজো হতো।

নবদ্বীপ-মাথাপুর রোড: ওপার বাংলার ঐতিহ্য বহন করে মনসা পুজো হয়ে থাকে দত্ত বাড়িতে
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শতাধিক বছরের পুরনো নবদ্বীপ-মাথাপুর রোডের দত্ত বাড়ির মনসা পুজো। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় দত্ত পরিবারের গৃহকর্তা স্বর্গীয় ব্রজেশ্বর দত্ত এই পুজোর সূচনা করেন। সেই সময়ের বাংলাদেশে খুবই জাঁকজমক করে এই পুজো হতো। ৪৫ বছর আগে ওই পরিবার এপার বাংলায় চলে আসে। সেই থেকেই এখন পুজোর ঠিকানা হয়েছে চৈতন্য ধাম নবদ্বীপ। পরবর্তীকালে এই পুজোর হাল ধরেন ব্রজেশ্বরবাবুর ছেলে স্বর্গীয় তারাপদ দত্ত। পরে দত্ত বাড়িতে মনসাদেবীর মন্দির তৈরি করা হয়। দেবীর বড় মূর্তি তৈরি করা হয়।

Advertisement

দত্ত পরিবারের সদস্য তথা পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী চণ্ডীচরণ দত্ত বলেন, মা মনসা খুবই জাগ্রত। আমার দাদার একটা কঠিন রোগ হয়েছিল। বহু চিকিৎসককে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু, রোগ সারেনি। এরপর হঠাৎই একদিন আমার বাবা তারাপদ দত্তকে স্বপ্নে দেখা দেন মা মনসা। দেবী স্বপ্নাদেশে বলেন, বাড়িতে মন্দির করে আমার পুজো শুরু কর, তোদের সবার মঙ্গল হবে। এরপর বাড়িতে মন্দির স্থাপন করে পুজো শুরু হয়। তার আগে এখানে সাধারণভাবে পুজো হতো। প্রতিবছরই পুরনো প্রতিমা ভাগীরথীতে সাত পাক ঘুরিয়ে বিসর্জন দিয়ে নতুন প্রতিমা মণ্ডপে আনা হয়। সেই প্রতিমার নিত্য পুজো চলে সারা বছরই। পুজোর দিন দেবীকে খিচুড়ি, পুষ্পান্ন, আলুর দম, লুচি, মালপোয়া, মিষ্টান্ন, পরমান্ন, ঘরের তৈরি করা নাড়ু, মোয়া ভোগ নিবেদন করা হয়। পুজোর পর প্রায় চার হাজার মানুষকে প্রসাদ বিলি করা হয়। বাড়ির পুজো হলেও পাড়া প্রতিবেশীরা এই পুজো ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন।
দত্ত বাড়ির গৃহকর্ত্রী কাকলি দত্ত বলেন, পুজোর অনেক আগে থেকেই  আমরা নানারকম আয়োজনে ব্যস্ত হই। বাড়ির মহিলারা নাড়ু, মোয়া, মুড়কি নিজ হাতে তৈরি করে। সারা বছরই আমরা এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকি। পুজোর দিন নিষ্ঠা সহকারে মায়ের ভোগ রান্না করা হয়। 
দত্তবাড়ির পুত্রবধূ বান্টি দত্ত বলেন, বাড়ির সকলে মিলে সকাল থেকেই মায়ের পুজোর আয়োজন করি। পুজোর দিন বাড়িতে ঢাক, ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহকারে পুজো হয়। সন্ধ্যায় বহু মানুষ আরতি দেখতে ভিড় করেন। সারা বছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি।
শুধু দত্তবাড়ি নয়, ওই এলাকাজুড়ে ঘরে ঘরে সর্পদেবী মা মনসার পুজো হয়। এই এলাকায় আজও বংশ পরম্পরায় কেউ তিনপুতুল, কেউ পাঁচ পুতুল, কেউ পঞ্চনাগ, কেউ অষ্টনাগের পুজো করেন। পাশাপাশি কেউ কেউ বড় মূর্তি এনেও পুজো করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ