সৌম্যদীপ ঘোষ, সিউড়ি: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বোটানির জার্নাল ফাইটোট্যাক্সাতে ঠাঁই পেল বীরভূমের দুই অধ্যাপকের অনুসন্ধানে উঠে আসা এক নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ। জার্নালটি নিউজিল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়। বোটানি বিদ্যার শেষ কথা বলে সেটি। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদানি লোখো ও সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক শামিম আলম যৌথভাবে অজয় নদের পাড়ে একটি বিশেষ গণের উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছিলেন। সেটা দেখতে অনেকটা সোনাঝুরি ও বাবলা গাছের মতো। তাই তাঁরা সেই উদ্ভিদের নাম দিয়েছেন ‘খেবলা’। বিজ্ঞানসম্মত নাম অবশ্য অন্য। যাকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফাইটোট্যাক্সা। গোটা বিশ্বের বোটানির গবেষকরা এই জার্নালের স্বীকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেখানে বীরভূমের দুই গবেষকের নাম নতুন উদ্ভিদ আবিষ্কারের তালিকায় উঠে আসায় গর্বিত জেলার শিক্ষামহল।
Advertisement
জানা গিয়েছে, উদ্ভিদবিদ্যার গবেষক আদানি ও শামিম বিভিন্ন সময় নানা উদ্ভিদের সন্ধান চালাতেন। একদিন অজয়ের পাড়ে ঘুরতে ঘুরতে তাঁদের নজরে আসে, খেজুর গাছকে পেঁচিয়ে একটি লতানো গাছ। যা সব জায়গায় দেখা যায় না। দেখতে অনেকটা কাঁটা দেওয়া বাবলা গাছের মতো। আবার লতানোও বটে। স্থানীয় মানুষজনের কাছে গাছটির সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা নামই বলতে পারেননি। কৌতূহল আরও বাড়ে দুই অধ্যাপকের। শুরু হয় গাছটি নিয়ে গবেষণা। গাছটির গণ কি, পাতার বৈশিষ্ট কীরকম—ইত্যাদি বিষয়ে নিরন্তর সন্ধান চালিয়ে যান। তৈরি করেন বিস্তারিত রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেন ফাইটোট্যাক্সা জার্নালের দপ্তরে। কিছুদিন পর গুরুত্ব সহকারে সেটি প্রকাশিত হয়। দুই গবেষক উদ্ভিদটির বিজ্ঞানসম্মত নাম দিয়েছেন অজয় নদকে কেন্দ্র করে—‘সেনেগালিয়া অজয়া’। আর অনেকটা বাবলা গাছের মতো কিছুটা দেখতে বলে নাম রেখেছেন ‘খেবলা’।
বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপনা করেন শামিম আলম। পড়ুয়াদের কাছেও তিনি বেশ প্রিয় শিক্ষক। তাঁর এই সাফল্যে ছাত্রছাত্রীরা বেজায় খুশি। তিনি বলেন, ‘গাছটিকে বাবলা গাছের দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলা যেতে পারে। এই প্রজাতি উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট হল পাতার মধ্যে রাচিলা প্রিকেলস (কাঁটা) ও প্যারাফিলিডিয়া(অবিকশিত পাতা) থাকে। ভারতে এই গণের যে ১১টি স্পিসিশ রয়েছে তার মধ্যে এই একটি উদ্ভিদেই সন্ধান পাওয়া গিয়েছে প্যারাফিলিডিয়া। অর্থাৎ, সহজ করে বললে একটি দিক বিকশিত হয়েছে। অন্যদিকটি অবিকশিত। দক্ষিণ আমেরিকাতে এরকম একটি স্পিশিস আবিষ্কার হয়েছিল। তবে, সেটা অন্যরকম ছিল বলে শুনেছি। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে খেবলা একেবারেই নতুন। কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে আমাদের রিপোর্টটি শোনানোর পর বলেছেন, গাছটিটি উপর কেমিক্যাল গবেষণাও করা যেতে পারে।’
অন্যদিকে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আদানি লোখো। শিক্ষক হিসাবে তাঁর সুনাম সর্বত্র। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন লেগুম প্রজাতির উদ্ভিদের এটি একটি সংযোজন। একদা খেবলা, বাবলা, সোনাঝুরি এই তিনটি গাছ একই গোত্রের অন্তর্গত ছিল।’ আদানি ও শামিমের সফল গবেষণা এবং তা আন্তর্জাতিকস্তরে স্বীকৃতি পাওয়ায় গর্বিত জেলার শিক্ষকমহল। বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক পার্থশঙ্খ মজুমদার বলেন, ‘শামিম ছাত্রজীবনেও অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অধ্যাপক হিসেবেও ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলেন। ওঁর অনুসন্ধিৎসু মন রয়েছে। শিক্ষক আদানিবাবু ওঁকে এই গবেষণায় গাউড করেছেন বলে শুনেছি। ওদের এই আবিষ্কারে আমরা সকলেই গর্বিত।’
বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপনা করেন শামিম আলম। পড়ুয়াদের কাছেও তিনি বেশ প্রিয় শিক্ষক। তাঁর এই সাফল্যে ছাত্রছাত্রীরা বেজায় খুশি। তিনি বলেন, ‘গাছটিকে বাবলা গাছের দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলা যেতে পারে। এই প্রজাতি উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট হল পাতার মধ্যে রাচিলা প্রিকেলস (কাঁটা) ও প্যারাফিলিডিয়া(অবিকশিত পাতা) থাকে। ভারতে এই গণের যে ১১টি স্পিসিশ রয়েছে তার মধ্যে এই একটি উদ্ভিদেই সন্ধান পাওয়া গিয়েছে প্যারাফিলিডিয়া। অর্থাৎ, সহজ করে বললে একটি দিক বিকশিত হয়েছে। অন্যদিকটি অবিকশিত। দক্ষিণ আমেরিকাতে এরকম একটি স্পিশিস আবিষ্কার হয়েছিল। তবে, সেটা অন্যরকম ছিল বলে শুনেছি। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে খেবলা একেবারেই নতুন। কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে আমাদের রিপোর্টটি শোনানোর পর বলেছেন, গাছটিটি উপর কেমিক্যাল গবেষণাও করা যেতে পারে।’
অন্যদিকে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আদানি লোখো। শিক্ষক হিসাবে তাঁর সুনাম সর্বত্র। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিভিন্ন লেগুম প্রজাতির উদ্ভিদের এটি একটি সংযোজন। একদা খেবলা, বাবলা, সোনাঝুরি এই তিনটি গাছ একই গোত্রের অন্তর্গত ছিল।’ আদানি ও শামিমের সফল গবেষণা এবং তা আন্তর্জাতিকস্তরে স্বীকৃতি পাওয়ায় গর্বিত জেলার শিক্ষকমহল। বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক পার্থশঙ্খ মজুমদার বলেন, ‘শামিম ছাত্রজীবনেও অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। অধ্যাপক হিসেবেও ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলেন। ওঁর অনুসন্ধিৎসু মন রয়েছে। শিক্ষক আদানিবাবু ওঁকে এই গবেষণায় গাউড করেছেন বলে শুনেছি। ওদের এই আবিষ্কারে আমরা সকলেই গর্বিত।’



