সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: নাড়া পোড়ানো বন্ধ করতে এবার চাষিদের সুপার সিডার মেশিন ব্যবহারে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিল কৃষিদপ্তর। চাষিরা জমি থেকে ধান কেটে নেওয়ার পর গাছের গোড়ার অংশ মাটিতে থেকে যায়। যাকে গ্রাম্য ভাষায় নাড়া বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নাড়া না তুলে তা জমিতেই পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনোক্সাইড, মিথেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, এরোসেল কণা সহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক উৎপন্ন হয়। যা বাতাসে মিশে বায়ুদূষণের পাশাপাশি ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। যার ফলে বায়ুর দৃশ্যমান্যতা কমে যায়। ফলে পথ দুর্ঘটনা সহ বিমান চলাচলেও সমস্যা হয়। এছাড়াও নাড়া পোড়ানোর ফলে জমির নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার, পটাশিয়াম, অনুখাদ্য সহ বিভিন্ন ধরনের উপকারী পদার্থ পুড়ে নষ্ট হয়। এমনকী মাটির এক ইঞ্চি গভীরতা পর্যন্ত মাটিতে উপস্থিত উপকারী জীবাণু, কেঁচো হ্রাস পেয়ে পরবর্তী ফসলের ফলনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। তাই কৃষিদপ্তরের তরফে নানা ভাবে নাড়া পোড়ানোর বিরুদ্ধে সচেতন করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় হোর্ডিং, ব্যানার, মাইকিং, লিফলেট বিলি সহ কৃষকদের নিয়ে বানানো হ্যোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও সচেতনতা প্রচার হচ্ছে। কিন্তু তারপরও বোলপুর ব্লকের বাহিরী, সিঙ্গি, মুলুক সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নাড়া পোড়ানোর খবর আসছে। তাই এই সমস্যা মেটাতে কৃষিদপ্তর অত্যাধুনিক সুপার সিডার মেশিন ব্যবহার করার কথা বলছে। এই মেশিনের সাহায্যে নাড়া না পুড়িয়ে সেই জমিতেই নতুন করে চাষ করা সম্ভব হবে। কীভাবে কাজ করবে এই মেশিন? জানা গিয়েছে ধান কেটে নেওয়ার পর দু’টি নাড়ার মধ্যবর্তী অংশের ফাঁকা জমিতে বসানো হবে মেশিন। ওই স্থানের মাটি চাষ করে একই সঙ্গে সেখানে গম বা সরষের বীজ বপন করবে মেশিনটি। এর ফলে নাড়ার নীচের জমি আলগা হয়ে যাবে। পরে নতুন ফসল চাষের জন্য জল দেওয়া হলে ধীরে ধীরে ধান গাছের গোড়ার অংশ বা নাড়া পচে গিয়ে জমিতে মিশে সারের কাজ করবে। তার ফলে জমির উর্বরতা ও জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এখন চাষিদের এই বিষয়ে আকর্ষিত করাই মূল লক্ষ্য কৃষিদপ্তরের। বোলপুরের কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ জসিমউদ্দিন বলেন, আমরা সবরকম ভাবে চেষ্টা করছি যাতে সম্পূর্ণভাবে নাড়া পোড়ানো বন্ধ হয়ে যায়।



