নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সোমবার সকালে সিউড়ি শহর লাগোয়া তিলপাড়া পঞ্চায়েতের সুকান্তপল্লি এলাকার এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মিলন দলুই (৪০)। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তিনি সিউড়ি পুরসভার১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিদেশি পাড়ার বাসিন্দা। মৃতের মাথা ও মুখের একটা অংশ থেঁতলানো ছিল। তাঁর নিম্নাঙ্গে কোনও পোশাক ছিল না। পরিবারের সদস্য সহ পুলিসের অনুমান, ওই যুবককে খুন করা হয়েছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, ভোঁতা কোনও বস্তু দিয়ে ওই যুবকের মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। দাদার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীর শাস্তির দাবি জানান মৃতের ভাই। ইতিমধ্যে পদস্থ পুলিস কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, প্রাথমিকভাবে খুনের ঘটনা অনুমান করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। যদিও খুনের কারণ এখনও অধরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ি পুরসভা এলাকার বাসিন্দা মিলনবাবুর বাড়িতে তাঁর স্ত্রী রয়েছেন। তাঁর এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সিউড়ি শহর লাগোয়া তিলপাড়া পঞ্চায়েতের সুকান্তপল্লির ওই এলাকায় নিত্যদিনই মদের আসর বসে। ওই মদের আসরে বহিরাগতদের আনাগোনা ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মদের আসরে মিলনবাবুরও যাতায়াত ছিল। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ৮টা নাগাদ মিলনবাবু বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। এদিন সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাড়ির লোকের অনুমান, মদের আসরে কোনও অশান্তির জেরেই মিলনবাবুকে বীভৎসভাবে খুন করা হয়েছে। যদিও পুলিস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চায়নি। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একজোড়া জুতো ও একটি প্লাস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে। খুনের সঠিক কারণ এবং কে বা কারা এই ঘটনায় জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ওই এলাকায় মদের আসর বসার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় প্রধান বাসুদেব মাহারা। তিনি বলেন, শুনেছি ওখানে মদের আসর বসত। বিভিন্ন এলাকার লোকজনের আনাগোনা ছিল। আগামীতে যেন ওই এলাকায় মদের আসর না বসে সেদিকে নজর রাখা হবে। এদিকে দাদার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীর শাস্তির দাবি জানান মৃতের ভাই পুচু দুলুই। তিনি বলেন, দাদা বউদি ও ঘরজামাই থাকা মেয়ে-জামাই, ছেলের সঙ্গে থাকত। দাদা কোনও অশান্তির মধ্যে থাকত না। তবে মাঝেমধ্যে অনেক রাতে বাড়ি ফিরত। এদিন সকালে মাঠ থেকে দাদার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আমাদের আশঙ্কা দাদাকে খুন করা হয়েছে।