Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাঁইথিয়া থানার চত্বরে যুবকের দেহ ঘিরে রহস্য

সাঁইথিয়া থানা চত্বরে রামপুরহাটের যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র চাঞ্চল্য ছড়াল!

সাঁইথিয়া থানার চত্বরে যুবকের দেহ ঘিরে রহস্য
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সাঁইথিয়া থানা চত্বরে রামপুরহাটের যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র চাঞ্চল্য ছড়াল! গলায় প্যান্ডেল বাঁধার দড়িতে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ থানা চত্বরে থাকা বৈঠকখানা থেকে উদ্ধার হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সমীর লেট (৩০)। রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সোমবার দুপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন ওই যুবক সাঁইথিয়া থানায় গিয়েছিলেন? পরিবারের সদস্যরা নিরুত্তর। যদিও পুলিসের দাবি, কোনও একটি সমস্যা নিয়ে ওই যুবক থানায় এসেছিলেন। কিন্তু সেই সমস্যা পুলিসের কাছে স্পষ্ট করার আগেই  ওই যুবক আত্মহত্যা করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে করে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। তবে, থানা চত্বরে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেপথ্যে কি অন্য কোনও রহস্য রয়েছে? জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, ‘গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্তদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 

Advertisement

জানা গিয়েছে, সমীর পেশায় দিনমজুর। রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবেও কাজ করতেন। বছর দশেক আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। দুই সন্তানও রয়েছে। তবে, বছর দু’য়েক আগে তাঁর স্ত্রী অন্যত্র সংসার পাতেন। এই পরিস্থিতিতে মা গায়ত্রী দাসকে নিয়েই তাঁর দিন কাটছিল। সম্প্রতি বাড়ির উঠোনে পড়ে গিয়ে তাঁর ডান হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল। দেহ উদ্ধারের সময় সেই হাতে প্লাস্টারও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু একটা প্রশ্ন তদন্তকারীদের বেশ ভাবাচ্ছে। সমীর কেন রামপুরহাট ছেড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি সাঁইথিয়া থানায় গিয়েছিলেন। কেনই বা কর্তব্যরত পুলিসকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। সবকিছুতেই জট পাকিয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে ধন্দে। সমীরের বোন নমিতা দাস বলেন, ‘আমরা কিছুই জানি না। ঘটনার খবর পেতেই হাসপাতালে ছুটে এসেছি।’ 
এদিন দেহ উদ্ধারের পরই থানার তরফে তড়িঘড়ি সিউড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে দেহ রেখেই বেপাত্তা হয়ে যান চালক। সঙ্গে ছিল না কোনও পুলিসকর্মীও। ঘটনায় প্রায় ৪৫ মিনিট জরুরি বিভাগের সামনেই যুবকের নিথর দেহ অ্যাম্বুলেন্সেই পড়েছিল। অবশেষে ঘটনার খবর পেতেই সিউড়ি থানার পুলিস হাসপাতালে পৌঁছয়। সেইসঙ্গে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এস দাসও সেখানে উপস্থিত হন। এরপরই যুবকের নিথর দেহ ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সাঁইথিয়া থানার পুলিস সেখানে উপস্থিত হয়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন, যুবকের নিথর দেহ হাসপাতালে পাঠানো হলেও সঙ্গে চালক বাদে আর কেউ কেন ছিল না? এছাড়াও হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তড়িঘড়ি চালকই বা কেন বেপাত্তা হয়ে গেলেন? নেপথ্যে কি কোনও কিছু আড়ালের চেষ্টা চলছে? পরিবারের তরফে সবদিক তদন্ত করে দেখার দাবি তোলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ