Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বনেদি বাড়ির কাণ্ডে রহস্য জারি, চিকিৎসার জন্য একেন্দ্রবাবুকে পাঠানো হল কলকাতায়

হুগলির চন্দননগরের বনেদি পরিবারে মৃত্যু, অসুস্থতা ও আত্মহত্যার চেষ্টার দাবি– কোনও রহস্যেরই সমাধান হল না।

বনেদি বাড়ির কাণ্ডে রহস্য জারি, চিকিৎসার জন্য একেন্দ্রবাবুকে পাঠানো হল কলকাতায়
  • ৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির চন্দননগরের বনেদি পরিবারে মৃত্যু, অসুস্থতা ও আত্মহত্যার চেষ্টার দাবি– কোনও রহস্যেরই সমাধান হল না। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও পুলিসমহলে ধন্দ কাটেনি। এদিকে, শনিবার সকাল সকাল চন্দননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন একেন্দ্রবাবুকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা। মধ্যবয়সি ওই মহিলার আচরণ আগেই তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। এদিন দিনভর তাঁর আচরণে সেই প্রশ্ন আরও জোরাল হয়েছে। চিকিৎসক মহলও তাঁর ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাতে স্থানীয় কাউন্সিলার শুভজিৎ সাউ ও বাসিন্দারা মিলে ওই ব্যক্তিকে কার্যত জোর করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

Advertisement

শুভজিৎবাবু বলেন, ওই ব্যক্তির পরিস্থিতি বাড়িতে চিকিৎসা করার মতো নয়। তাঁর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন। তাঁর মেয়ে কেন হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন, তাঁর জবাব তিনিই দিতে পারবেন। তবে স্থানীয়দের আবেদনে আমরা উদ্যোগ নিয়ে একেন্দ্রবাবুকে রাতে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়েছি। পুলিস সঠিক তদন্ত করুক, এটাই এখন সকলের দাবি। এদিন শর্মিষ্ঠাদেবী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। তিনি কলকাতায় গেলেও তাঁর বাবার দেখাশোনার জন্য মেডিক্যালেও থাকেননি। ওই পরিবারের আত্মীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি মামার বাড়িতে থাকার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু মায়ের দাহকাজে না থাকার জন্য মামার বাড়ির কিছু সদস্য তাঁকে ভৎর্সনা করেন। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে তিনি চন্দননগরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান। প্রসঙ্গত, শুক্রবার চন্দনগরের বৈদ্যপোঁতার সাবেক ধনী ব্যবসায়ী দাসেদের বিরাট মহল থেকে গৃহকর্ত্রী সুনীতা দাসের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর স্বামীকে একই ঘরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। মেয়ে শর্মিষ্ঠা প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করেন, তাঁরা তিনজনেই ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। ঘটনাকে ঘিরে রহস্য দানা বাঁধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাসের মাঝামাঝি একেন্দ্রবাবুকে একটি কলেজের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে তিনি রীতিমতো উচ্ছ্বসিত ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগেও ওই বিষয়ে সুনীতাদেবীর ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তখনও পারিবারিক অনটন বা সমস্যার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি বলে একেন্দ্রবাবুর আত্মীয়দের একাংশ দাবি করেছেন। ফলে, চন্দননগর কাণ্ডের জট কাটার কোনও ইঙ্গিত এখনই মিলছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ