সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলায় এক বৃদ্ধার অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। বৃদ্ধার নাম বিজলী ঘোষ (৭০)। শুক্রবার রাতে মহেশতলা পুর এলাকার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সারেঙ্গাবাদ রোডে বৃদ্ধার বাড়ি থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা খবর দিলে পুলিস ও দমকলের লোকজন এসে আগুন নিভিয়ে দেহটি উদ্ধার করেন। তবে ওইদিন সকাল থেকেই ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় মনে করা হচ্ছে, বৃদ্ধাকে আগেই খুন করা হয়েছে। ওই রাতে আগুন ধরিয়ে খুনের ঘটনাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাড়িতে ওই সময় তাঁর ছেলে সঞ্জয় ঘোষ ছিল। সে মানসিক ভারসাম্যহীন। অতীতে মাকে মারধর করার অজস্র অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই তদন্তকারীদের ধারণা, সঞ্জয় মাকে খুন করে ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই বাড়িতে মা ও ছেলে থাকতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন সঞ্জয় কারণে-অকারণে মাকে মারধর করত। অত্যাচার থামাতে একবার পুলিসকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। বিজলীদেবী বলেছিলেন, ছেলের মাথায় গোলমাল আছে। প্রতিবেশীরা পুলিসকে জানিয়েছেন, দিনকয়েক ধরেই ওই বাড়ির দরজা, জানালা বন্ধ ছিল। ভিতর থেকে কোনও আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার সকাল থেকেই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। রাত ৯টা নাগাদ ধোঁয়া বেরতে দেখে সন্দেহ হয়। আমরাই দমকল এবং মহেশতলা থানায় খবর দিই।
দমকল ও পুলিস কর্মীরা খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যখন আসেন, তখনও বিজলীদেবীর দেহ থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছিল। তড়িঘড়ি আগুন নিভিয়ে তাঁকে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের সন্দেহ, ছেলেই মাকে খুন করার পর ঘরে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলে সঞ্জয় ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।