Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানিকচকের মালখানায় ভয়াবহ আগুনে রহস্য, প্রশ্নের মুখে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

মানিকচকের মালখানায় ভয়াবহ আগুনে রহস্য, প্রশ্নের মুখে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, মানিকচক: শনিবার রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে মানিকচক থানার মালখানায়। পরপর দুটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। আশেপাশে দমকল কেন্দ্র না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চরম ভোগান্তি হয় পুলিসকর্মীদের। থানায় একটি ছোট ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও তা দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা পর ইংলিশবাজার থেকে দমকলের ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সবমিলিয়ে মানিকচক থানার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই এখন প্রশ্নের মুখে। রবিবার সকালে মানিকচক থানায় গিয়ে দেখা যায়, মালখানার বাইরের দেওয়াল ভাঙা। আগুনে ছাই হয়েছে মালখানার সমস্ত কিছু। ঘিরে রাখা হয়েছে ঘটনাস্থল।

Advertisement

মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, তদন্ত শেষ না হলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ডিএসপি সদরের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। মালখানায় বেশকিছু ব্যাটারি ছিল। গরমে সেগুলি ফুলে গিয়ে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। 
শনিবার রাত ন’টা নাগাদ থানার মালখানার ভিতর প্রথম আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পুলিসকর্মীরা ছোট একটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় থানা চত্ত্বর। 
মালখানার পাশের ঘর থেকে সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় লকআপে আটকদের। এরই মধ্যে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে এগিয়ে আসেন। মালখানায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলার সময় দু’বার বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আগুনের কুণ্ডলি প্রায় পঞ্চাশ মিটার উপরে উঠে যায়। মালখানার ভিতর এমন কী ছিল, যার জেরে এত বড় বিস্ফোরণ হয়েছে? সেই প্রশ্নই বেশি ভাবাচ্ছে। উগরিটোলার বাসিন্দা মহম্মদ এজাবুল হোসেন বলেন, আমরা থানায় আগুন নেভাতে গিয়ে দেখি অগ্নি নির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা নেই। সেজন্যই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিস সুপার জানান, ব্যাটারি থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা। এছাড়াও সেখানে পুরনো কিছু টিভি ছিল। সেগুলিও বিস্ফোরণ হতে পারে। রাত প্রায় দশটার পর মালদহ থেকে দমকলের দুটি ইঞ্জিন পৌঁছয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই একটি ইঞ্জিনের জল শেষ হয়ে যায়। থানার পাশে থাকা একটি জলাধার থেকে বালতি করে দমকলের ট্যাঙ্কে জল ভরেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ