Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ দমদমে মহিলার কঙ্কালসার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত

কেন নিজের নাম ও ফোন নম্বর পরিবর্তন করেছিলেন তিনি, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে

দক্ষিণ দমদমে মহিলার কঙ্কালসার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘আর্ট অব লিভিং’ সংস্থার সদস্য হওয়ার পাশাপাশি প্ল্যানচেট ও ব্ল্যাক ম্যাজিকে কি আসক্ত ছিলেন দক্ষিণ দমদমের সেই মহিলা? তাঁর বাড়ি থেকেই মহিলার কঙ্কালসার মৃতদেহ উদ্ধারের পর এমন নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। তাঁর বাড়ির দেওয়ালে আঁকা রয়েছে নানা ছবি, ঘরজুড়ে রয়েছে অসংখ্য সামগ্রী। কেন নিজের নাম ও ফোন নম্বর পরিবর্তন করেছিলেন তিনি, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে। তাঁর মৃত্যু কবে ও কীভাবে হয়েছে, তা জানতে গিয়ে নতুন নতুন তথ্যের হদিশ পাচ্ছেন পুলিস অফিসাররা। আদৌ এই রহস্যের কিনারা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে এলাকাবাসী। পুলিস জানিয়েছে, সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

শনিবার দুপুরে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এম সি গার্ডেন রোডের বন্ধ ঘর থেকে সুপর্ণা ধাড়ার (৫৭) কঙ্কালসার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। তিনি ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। তবে মাস আটেক আগে গত ডিসেম্বরে ওই বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ পাওয়ায় নাগেরবাজার থানার পুলিস মৃতার দিদিদের নিয়ে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেবার একটি ঘর তল্লাশি না করেই পুলিস চলে এসেছিল। তারপর থেকে ঘরের চাবি দিদিদের কাছেই ছিল। গত শনিবার ঘর খুলে ভিতরে ঢুকে এক দিদি প্রথম মৃতদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিস দেহটি উদ্ধার করে। ওই বাড়িতে সাতের দশক থেকে একটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল চলত। এলাকার বহু কৃতী মানুষ এক সময়ে ওই স্কুলের প্রাক্তনী। সকলেই চাইছেন, এই মৃত্যু রহস্যের কিনারা হোক।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ২০১৮ সালে সুপর্ণাদেবীর মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তাঁরা গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। ২০২২ সালে মা মারা যান। তখন মায়ের মৃতদেহের সঙ্গে ওই ঘরে প্রায় ১২ দিন কাটিয়েছিলেন সুপর্ণাদেবী। সেবারও স্থানীয়রা পচা গন্ধ পেয়ে পুলিসকে জানানোর পর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। সুপর্ণাদেবী ‘আর্ট অব লিভিং’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাড়িতে রান্নাবান্নার পাট ছিল না। হোম ডেলিভারি সংস্থা খাবার দিয়ে যেত। অনলাইন সংস্থা থেকে তিনি জিনিস কেনাকাটা করতেন। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, ওই ঘরে ফ্যান ও আলো জ্বলছিল। ফ্রিজ ঠাসা ছিল তাজা খাবারে। তাহলে নিশ্চয়ই ওই বাড়িতে কারও নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে মনে করছে পুলিস। 
ঘরের দেওয়ালে সূর্যগ্রহণের ছবির পাশাপাশি রয়েছে একাধিক চিহ্ন আঁকা। তদন্তকারীরা বলছেন, এইসব ছবি ব্ল্যাক মাজিকের অংশ। এমনকী, প্ল্যানচেট করার সামগ্রীও ছিল বাড়ির মধ্যে। সুপর্ণাদেবী নিজের নাম পরিবর্তন করে দেবস্মিতা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দীর্ঘদিনের ফোন নম্বরও বদল করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, গত ডিসেম্বরেই কি সুপর্ণাদেবীর মৃত্যু হয়েছিল? তাহলে সেই সময় তল্লাশির সময় বাড়িতে দেহ পাওয়া গেল না কেন? কেনই বা একটি ঘরে তালা দেখেও এড়িয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার? বারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (দক্ষিণ) অনুপম সিং বলেন, সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে অনেক কিছু স্পষ্ট হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ