Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

রহস্যময় আলো

এই আলোর রহস্য লুকিয়ে আছে ক্ষুদ্র এক জীবের মধ্যে। যাদের বলা হয় ডাইনোফ্ল্যাজেলেট। এরা এতটাই ছোটো যে, খালি চোখে আলাদা করে দেখা যায় না।

রহস্যময় আলো
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

এই আলোর রহস্য লুকিয়ে আছে ক্ষুদ্র এক জীবের মধ্যে। যাদের বলা হয় ডাইনোফ্ল্যাজেলেট। এরা এতটাই ছোটো যে, খালি চোখে আলাদা করে দেখা যায় না।

Advertisement

কালীপদ চক্রবর্তী: ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা কি কখনো মসকিউটো বে-র নাম শুনেছ? নাম শুনেই মনে হতে পারে— এটা বুঝি মশায় ভরা কোনো উপসাগর! কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা একেবারেই অন্যরকম। এখানে মশা নয়, বরং দেখা যায় এক অপূর্ব রহস্যময় সবুজ-নীল আলো। যা রাতের অন্ধকারকে আলোকিত করে তোলে। মনে হয় যে জাদুকাঠির ছোঁয়া।
এই আশ্চর্য জায়গাটি রয়েছে ভিয়েকস দ্বীপে। যা ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে অবস্থিত। চারপাশে সারি সারি গাছ, আর তাদের ঝরা পাতা মিশে যায় উপসাগরের স্বচ্ছ সবুজ জলে। দিনের বেলায় জায়গাটা শান্ত ও সুন্দর, কিন্তু আসল জাদু শুরু হয় সন্ধ্যার পর।
যদি কেউ রাতে নৌকায় চেপে এই সাগরে ভ্রমণে বের হন, তাহলে তিনি এক অভাবনীয় দৃশ্যের মুখোমুখি হবেন। চারপাশের জল হঠাৎ করেই ঝিকিমিকি করে উঠবে—মনে হবে যেন হাজার হাজার ছোটো ছোটো তারা জলের মধ্যে নাচছে! ভয় পাওয়ার কিছু নেই—এটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা।
এই আলোর রহস্য লুকিয়ে আছে ক্ষুদ্র এক জীবের মধ্যে। যাদের বলা হয় ডাইনোফ্ল্যাজেলেট। এরা এতটাই ছোটো যে, খালি চোখে আলাদা করে দেখা যায় না। দিনের বেলায় সূর্যের আলো শোষণ করে, আর রাতে সেই শক্তিকেই আলো হিসেবে ছেড়ে দেয়—যাকে বলে বায়োলুমিনেসেন্স।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, প্রতিটি আলো জ্বলে ওঠে খুব অল্প সময়ের জন্য—চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই তা মিলিয়ে যায়! কিন্তু যখন লক্ষ লক্ষ ডাইনোফ্ল্যাজলেটস একসঙ্গে আলো ছড়ায়, তখন পুরো উপসাগরটাই হয়ে ওঠে এক স্বপ্নের মতো উজ্জ্বল। যেন কালীপুজোর রাতে টুনি লাইটের ঝলমলে সাজ!
আমাদের গ্রামের ঝোপঝাড়ে যেমন জোনাকির আলো দেখে আমরা মুগ্ধ হয়ে যাই, ঠিক তেমনই এখানে এই ক্ষুদ্র প্রাণীগুলোর আলো রাতের অন্ধকারকে করে তোলে অপূর্ব সুন্দর।
আরও আশ্চর্যের বিষয়—যদি কেউ এই জলে হাত ডুবিয়ে আবার তুলে নেয়, তবে দেখা যাবে তার হাত থেকেও সবুজ আলো বের হচ্ছে! এমনকি কেউ যদি এই জলে সাঁতার কাটে, তার শরীর থেকেও কিছু সময়ের জন্য এই আলো জ্বলে ওঠে।
তবে দুঃখের কথা, আজকাল মানুষের অসচেতনতার কারণে এই অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস হওয়ার মুখে। গাছ কেটে ফেলা, কারখানার দূষণ, আর বাড়তে থাকা জনবসতি— সবকিছুই ক্ষতি করছে এই ক্ষুদ্র অথচ আশ্চর্য জীবগুলোর।
তবে আশার কথা, স্থানীয় মানুষ এখন অনেকটাই সচেতন হচ্ছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন এই প্রাকৃতিক বিস্ময়কে রক্ষা করতে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই জাদুকরি আলো নিজের চোখে দেখতে পারে।
প্রকৃতি সত্যিই কতটা আশ্চর্যের, 
তাই না?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ