Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু: ফোনের চ্যাট-মেসেজ ডিলিট, সূত্র খুঁজছে পুলিশ

এনআরএস মেডিকেল কলেজের নার্স রূপালি বর্মনের মৃত্যুরহস্য নতুন বাঁক নিল। কারণ, হাসপাতালের টয়লেটে তাঁর মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নেই।

এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু: ফোনের চ্যাট-মেসেজ ডিলিট, সূত্র খুঁজছে পুলিশ
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এনআরএস মেডিকেল কলেজের নার্স রূপালি বর্মনের মৃত্যুরহস্য নতুন বাঁক নিল। কারণ, হাসপাতালের টয়লেটে তাঁর মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলে কোনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নেই। সব ডিলিটেড। শূন্য হয়ে গিয়েছে মেসেজ ইনবক্স এবং কল হিস্ট্রিও। রয়েছে বলতে ফোনবুকের কিছু নম্বর। তাই ‘সূত্র’ মেলার আশায় মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করতে নিয়েও ধোঁয়াশাতেই থেকে গিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। কে উড়িয়ে দিল যাবতীয় কথোপকথন? কিছুতেই স্পষ্ট হচ্ছে না। 

Advertisement

তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, ৯টা ১০ নাগাদ তিনি টয়লেটে যান। সেখানে বসেই সব মেসেজ ডিলিট করতে পারেন। কারণ, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রূপালিদেবী একাই শৌচাগারে ঢুকছেন। দরজা তখন খোলা থাকায় বোঝা গিয়েছে, আগে থেকে কেউ ভিতরে ছিল না। মাঝেও কেউ ঢোকেনি। দেহ উদ্ধার হয়েছে ১০টা ২৭ মিনিটে। অর্থাৎ, অনেকটা সময়। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হল, বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে মতান্তর হয়ে থাকতে পারে। সেই সূত্রেই স্বামী বা ‘অন্য কেউ’ মোবাইল কেড়ে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং মেসেজ ডিলিট করতে পারেন। কল লিস্ট মুছে দিয়েও সেক্ষেত্রে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু স্বামী রাহুল দাবি করেছেন, রূপালিদেবীর সঙ্গে কোনো ঝামেলা তাঁর হয়নি। তাই প্রথম সম্ভাবনা বেশি জোরালো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, কেন? তদন্তকারীদের যুক্তি, মেসেজে এমন কিছু ছিল, যা প্রকাশ্যে এলে সংসার বা হাসপাতালে তোলপাড় পড়ে যেত। এমনকি, ওই নার্সের বিবাহ বহির্ভূত কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটাও ভাবাচ্ছে অফিসারদের। না হলে মেসেজ ও কল লিস্ট ডিলিট করার কোনো যুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সাইবার ফরেনসিক বিভাগের কাছে মোবাইল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, রিট্রিভ করতে হবে যাবতীয় ডিলিটেড মেসেজ ও কল লিস্ট। মৃত্যুর আগে মেসেজ বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে যদি কারও সঙ্গে ঝামেলা হয়ে থাকে, রিট্রিভ করলে সেটা প্রকাশ্যে আসবে। দেখা যাবে, ‘জীবন শেষ’ করে দেওয়ার কথা তিনি কাউকে লিখেছিলেন কি না।
ইতিমধ্যেই রূপালি বর্মনের সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, রূপালিদেবী প্রবল স্ট্রেসের মধ্যে ছিলেন। কাজের চাপও ছিল। সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু নানাবিধ চাপে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তার থেকে কি স্বামীর সঙ্গে সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছিল? রাহুল যদিও সবটাই অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, এখনও মানসিক চাপে আছেন। স্বাভাবিক হলে এ নিয়ে তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ