Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রহস্যমত্যু প্রাক্তন স্বামীরও! জেল খেটে বেরিয়ে ফের বিয়ে উপাসনার

বাগুইআটিতে স্বামীকে কুপিয়ে খুনে অভিযুক্ত স্ত্রী উপাসনা এখনও অধরা

রহস্যমত্যু প্রাক্তন স্বামীরও! জেল খেটে বেরিয়ে ফের বিয়ে উপাসনার
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাগুইআটিতে স্বামীকে কুপিয়ে খুনে অভিযুক্ত স্ত্রী উপাসনা এখনও অধরা। সে এই রাজ্যে আছে, নাকি ভিন রাজ্যে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে, জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিস। এদিকে, উপাসনার ক্রাইম রেকর্ড খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিস জানতে পেরেছে, প্রাক্তন স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় অভিযুক্ত ছিল সে। এমনকী, এই মামলায় সে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়। তারপর সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। প্রথম স্বামীর রহস্যমৃত্যুর পর ধরা পড়ার ভয়ে সে ভিন রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছিল। তাই এবারও সে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিস। বিভিন্ন সূত্র ধরে তার খোঁজ তলছে। 

Advertisement

উপাসনা যে আগে বিয়ে করেছিল, তা জানতেন ভোলা হালদার। ভোলাও বিবাহিত ছিলেন। দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল এটি। বিয়ের পর গত এক বছর ধরে বাগুইআটির জগৎপুর চড়কতলায় একটি বাড়ির তিনতলায় ভাড়া থাকতেন তাঁরা। দু’জনের মধ্যে নিত্যদিন ঝগড়া ও অশান্তি লেগে থাকত। গত ২৭ আগস্ট দুপুরে ওই ভাড়াবাড়ির বাথরুম থেকে ভোলার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ভোলা আগের পক্ষের স্ত্রীর কাছে ফিরতে চাইলে উপাসনা কাটারি দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করে। তারপর প্রমাণ লোপাট করতে জামাকাপড় পোড়ানো হচ্ছিল বাড়ির ভিতরেই। সেই পোড়াগন্ধ কোত্থেকে আসছে, খোঁজ করতে গিয়ে বাড়ির মালিক তাদের রুমে পৌঁছন। প্রত্যক্ষদর্শী বাড়িমালিক দেখেছিলেন, উপাসনাই ওই কাপড় পোড়াচ্ছে। বিছানায় রাখা কাটারি। বাথরুমে দেহ। তারপরই সুযোগ বুঝে চম্পট দেয় উপাসনা।
এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিস উপাসনার বেশ কিছু গতিবিধির আঁচ পায়। ভাড়াবাড়ির ভিতর থেকে পোড়া কাপড়, রক্তের দাগ সহ একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও মিলেছে। ঘটনার দিন দুপুরে উপাসনা উল্টোডাঙার দিকে গিয়েছে। তারপর ট্রেনে নাকি সড়কপথে পালিয়ে গিয়েছে, জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। বিধাননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ‘উপাসনাই যে খুনি, তার বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে। তার এক পরিচিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখছি। আগের পক্ষের স্বামীর মৃত্যুতে উপাসনার বিরুদ্ধে গোবরডাঙায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা ছিল। সে গ্রেপ্তার হয়ে জেল হেফাজতে ছিল। কয়েকমাস পর জামিনে মুক্ত হয়। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী খুনে দ্বিতীয় মামলা রুজু হল।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ