সংবাদদাতা, লালবাগ: কলকাতায় ম্যানহোলে নেমে মৃত দুই শ্রমিকের দেহ সোমবার গভীর রাতে লালগোলায় এসে পৌঁছয়। মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছতেই দুই পরিবারে কান্নার রোল ওঠে। প্রতিবেশীরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার সকালে বাতাপাড়া ও টিকরপাড়া গ্রামে দু’টি মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়। এদিন বিকেলে কলকাতায় মৃত দুইজনের পরিবারের পাশাপাশি পাটনায় মৃত রাইহান আলির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে দাঁড়িয়ে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি। তিনি বলেন, কলকাতা কর্পোরেশন প্রত্যেক মৃতের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। ওই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে দুই পরিবারকে দলের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেছি। যাতে তাড়াতাড়ি ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া যায়, তার জন্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলব। দুই মৃতের পরিবার সরকারি চাকরির দাবি জানিয়েছে। আমি বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
Advertisement
রবিবার সকালে লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় নিকাশি নালা পরিষ্কার করার সময়ে ম্যানহোলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান লালগোলা থানার বাতাপাড়ার বাসিন্দা ফরজেম শেখ ও ওই থানার টিকরপাড়ার হাসিবুর শেখ ওরফে হাসি। মৃত্যুর খবর লালগোলায় এসে পৌঁছনোর পর থেকে দুই পরিবারের সঙ্গে রাত জেগেছে দুই গ্রাম। আগলে রেখেছে দুই পরিবারকে। দুর্ঘটনার প্রায় দুই দিনের মাথায় মৃতদেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামবাসীরা। মৃতদেহ বাড়ির উঠোনে নামানোর পর থেকে হাসিবুর শেখের স্ত্রী সারাবান তোহরা অসুস্থ বছর দেড়েকের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে কেঁদেই চলেছিলেন। কোনওরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে ফোন করত। ওইদিন সকালে আর ফোন করেনি। পরে কলকাতা থেকে মৃত্যুর খবর আসে। এখন মেয়েটাকে নিয়ে আমি কোথায় যাব, কী করব ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না। বিধায়ক সাহেব এসেছিলেন। ওঁকে একটা কাজের জন্য বলেছি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন। হাসিবুরের মা তাসমিরা বিবি বলেন, সরকার বউমাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলে দু’টি প্রাণ বেঁচে যাবে। এদিকে বাতাপাড়ার ফরজেম শেখের বাড়িতেও শোকের পরিবেশ। ফরজেম শেখের স্ত্রী আসরাফুন্নেসা বিবি বলেন, পরিবারে ৯ জন সদস্য। এক মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। ছেলেরা সেভাবে রোজগার করতে পারে না। বাধ্য হয়ে ৬০ বছর বয়সেও কলকাতায় কাজ করতে গিয়েছিল। এখন এতগুলো মুখে কীভাবে অন্ন উঠবে বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে সোমবার বিহারের পাটনায় গর্ত থেকে মাটি তোলার সময় পড়ে গিয়ে মারা যান বাতাপাড়ার রাইহান আলি। মঙ্গলবার মধ্যরাতে মৃতদেহ লালগোলার বাড়িতে এসে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে।



