Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমার ছেলে দুর্নীতিগ্রস্ত, অকপট জীবনকৃষ্ণের বাবা! পিসির সম্পত্তি নিয়েও উঠল প্রশ্ন

‘ও আমার ছেলে হতে পারে। কিন্তু, বিধায়ক হিসেবে জীবনকৃষ্ণ সাহা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। ওর পিসি মানে আমার বোনও দুর্নীতিতে যুক্ত।

আমার ছেলে দুর্নীতিগ্রস্ত, অকপট জীবনকৃষ্ণের বাবা! পিসির সম্পত্তি নিয়েও উঠল প্রশ্ন
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বড়ঞা: ‘ও আমার ছেলে হতে পারে। কিন্তু, বিধায়ক হিসেবে জীবনকৃষ্ণ সাহা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। ওর পিসি মানে আমার বোনও দুর্নীতিতে যুক্ত। ওদের দু’জনের বিপুল সম্পত্তি দুর্নীতির টাকায়। আমার বসতভিটেও হাতিয়ে নিয়েছে ওরা।’ সোমবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে ইডি। সেই খবর কানে পৌঁছতেই ছেলে ও বোনের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিশ্বনাথ সাহা। 

Advertisement

বড়ঞায় নিজের ঘাম ঝরানো বসতবাড়ি খুইয়ে বিশ্বনাথবাবু এখন থাকেন বীরভূমের সাঁইথিয়ায়। একটি চালের মিল রয়েছে তাঁর। এদিন সেখানেই মুখ খুলেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি বরবরাই ওর (ছেলে) কাজে বীতশ্রদ্ধ। আমার  বসতবাড়িটাও হাতিয়ে নিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও করেছে। আমার বোনও ওর সঙ্গে যুক্ত। দু’জনে মিলে দুর্নীতি করে গিয়েছে।’ জীবনকৃষ্ণ প্রথমবার গ্রেপ্তারের পরও বিশ্বনাথবাবু ছেলের বিরুদ্ধে একইভাবে মুখ খুলেছিলেন। এবার তাঁর অভিযোগের তালিকায় যোগ করলেন নিজের বোনকে। যা নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে সাঁইথিয়ায়। কেননা, সাঁইথিয়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার জীবনকৃষ্ণের পিসি তথা বিশ্বনাথবাবুর বোন মায়া সাহা। 
বড়ঞার আন্দি গ্রামে বাড়ি তৃণমূল বিধায়কের। জেলমুক্তির পর এই বাড়িতেই ছিলেন জীবনকৃষ্ণ। এদিন, আচমকা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অফিসাররা ওই বাড়িতে হানা দেন। টানা বেশ কয়েক ঘণ্টা জেরা করা হয় তাঁকে। তারই মাঝে জীবনকৃষ্ণ আধিকারিকদের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ছুটে পালাতে গিয়ে কচুবনের পাঁকে আটকে যায় পা। সিআরপিএফ জওয়ানরা তাঁকে ধরে ফেলেন। ফের বাড়িতে আনা হয়।  এক ইডি আধিকারিক বলেন, সকাল ৯টা নাগাদ হঠাৎ করেই বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বিধায়ক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিআরপিএফ জওয়ানরা তাঁকে ধরে আনেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিনই মায়া সাহার বাড়িতেও পাঁচ সদস্যের ইডির একটি দল পৌঁছয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ২৮ আগস্ট কলকাতায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। 
সাঁইথিয়া শহর ছাড়িয়ে হরিসরা পঞ্চায়েত এলাকায় বিশ্বনাথবাবু চালের মিল রয়েছে। দিনভর কাজকর্মের পাশাপাশি সেখানেই তিনি থাকেন। তাঁর অভিযোগ, সাঁইথিয়া পুর এলাকায় থাকা তাঁর বসতভিটে ছেলের দখলে রয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর জরুরি প্রয়োজনেও সেই বাড়িতে তিনি আর পা রাখতে পারছেন না। সুবিচারের আশায় একাধিক জায়গায় দরবারও করেছিলেন। কিন্তু ছেলের বিধায়ক হওয়ার কারণে কোনও সুরাহা মেলেনি। এখন বসতবাড়ি ফিরে পেতে বিশ্বনাথবাবু চান ছেলের বিধায়ক পদ খারিজ হোক। তবে, শুধু ছেলের বিরুদ্ধে নয়, এদিন বোনকেও নিশানা করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জীবনকৃষ্ণের অবদানেই মায়া সাহা কাউন্সিলার হয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতিতেও তাঁর যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশ্বনাথবাবু। 
ছেলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে গিয়ে বিশ্বনাথবাবু বলেন, ‘আমি তো জানি, আগে ওর কিছুই ছিল না। বিধায়ক হওয়ার পর ফুলেফেঁপে উঠেছে। বেনামে একাধিক  বাড়ি কিনেছে। আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। আমার বসতবাড়িতেও ঢুকতে পারছি না। ওর গা থেকে এমএলএ স্ট্যাম্পটা বাড়ি থেকে বের করে দেব।’ তাঁর অভিযোগ, জীবনকৃষ্ণ ও মায়া সাহার মধ্যে আর্থিক লেনদেন হতো। আমার বোনও বিপুল সম্পত্তি করেছে। দুর্নীতি করেই ওদের উত্থান। নিয়োগ দুর্নীতিতেও মায়ার যোগ রয়েছে।’ 
যদিও ভাইয়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মায়াদেবী। তিনি বলেন, ‘ভাইপোর সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক। অন্য কোনও বিষয়ে কোনও যোগ নেই। ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি করেও কিছু পাননি। আগামী ২৮ আগস্ট ডেকে পাঠিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব করা হচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ