নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওলা কারবারের ‘সম্রাট’ কমলেশ রজনীকান্ত শাহের নেটওয়ার্কের হদিশ এবার কলকাতায়ও। বড়বাজারের পোস্তায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ডাকাতির তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। কোথাও হাওলার টাকা লুট হলে তা নিজের বলে দাবি করাই কমলেশের ‘মোডাস অপারেন্ডি’। পোস্তায় লুট হওয়া টাকাও যথারীতি নিজের বলে দাবি করে হাওলার এই কিংপিন। পোস্তা থানায় সরাসরি ফোন করে এই দাবি করে সে। সত্যিই কি এই টাকা তার? তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে ডাকাতির ঘটনায় ললিত মুন্দ্রা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে ‘টিপার’ হিসাবে কাজ করেছিল বলে জানতে পারছেন তদন্তকারীরা।
কয়েকদিন আগে পোস্তায় একটি অফিস থেকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ডাকাতি হয়। পুলিশ জানতে পারে, এগুলি হাওলার টাকা। এখানে হাওলার কারবার চালাত স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। ঘটনার পরই দেশে হাওলা কারবারের চাঁই কমলেশ রজনীকান্ত থানায় ফোন করে দাবি করে, এসব তার ব্যবসার টাকা। প্রামাণ্য নথিও রয়েছে তার কাছে। এখান থেকেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, কমলেশের নেটওয়ার্ক এই রাজ্যে ছড়িয়েছে। সেই কারণে পোস্তায় হাওলা কারবারের টাকা ডাকাতি হওয়ার খবর দ্রুত পৌঁছে গিয়েছে তার কাছে।
আমেদাবাদের বাসিন্দা কমলেশের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে দিল্লি, গুজরাত, মুম্বই, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায়। তার কৌশলই হল, দেশের যেকোনো প্রান্তে হাওলার টাকা লুট হলে বা আয়কর দপ্তর তল্লাশি চালিয়ে হিসাববহির্ভূত টাকা বাজেয়াপ্ত করলে বিভিন্ন নথি নিয়ে থানা বা আয়কর অফিসে পৌঁছে যায় সে। ওই টাকা নিজের বলে দাবি করে। এভাবে অন্যের টাকা হাতানোর জন্য রীতিমতো নেটওয়ার্ক রয়েছে তার। সেই টাকা আবার বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয় হাওলা মারফত। চলতি বছরের মে মাসে সার্ভে পার্কে ১ কোটি টাকা ডাকাতি হয়। সেই টাকাও তার বলে দাবি করে যোগাযোগ করেছিল কমলেশ। এরপর পোস্তা। সব ক্ষেত্রেই তারই টাকা ডাকাতি হচ্ছে কেন, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পুলিশের মনে। পাশাপাশি, কলকাতায় হাওলা কারবার চালায়, এমন ব্যবসায়ীদের লেনদেনের খবর পাওয়ার জন্য সে একাধিক ‘টিপার’ রেখেছে বলে খবর। এরাই নিয়মিত খবরাখবর পৌঁছে দিচ্ছে তাকে। তবে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধৃত ‘টিপার’ ললিত মুন্দ্রার সঙ্গেও তার কোনো যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ডাকাতির পর থেকে সে বেপাত্তা ছিল। পুলিশের কাছে খবর আসে, সোমবার রাতে সে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে রাজস্থান পালাবে। সেই মতো তদন্তকারী অফিসার সৌভিক সেন টিম নিয়ে পৌঁছে যান স্টেশনে। ললিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: এআই