নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কুরবানির আগে সমস্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। পশুবলি আইন কার্যকর করতে কড়া পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। ১৪ বছরের কম বয়সি গবাদি পশু হত্যা রুখতে শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি। আইন না মানলে ধরপাকড় করা হচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পশু চিকিৎসকের শংসাপত্র এবং সরকার স্বীকৃত কসাইখানা ছাড়া কোথাও গোরু জবাই করা বা মাংস কাটা যাবে না। কড়া নির্দেশিকা জারি করে কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ। বৈধ নথি ছাড়া পশু পরিবহণের ক্ষেত্রেও ধরপাকড় চলছে। বেআইনিভাবে গাড়ি করে এক জায়গা থেকে অন্যত্র গোরু নিয়ে যাওয়া হলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন জায়গায় গবাদি পশু পরিবহণ করায় গাড়িচালকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার বেলডাঙায় তিনটি গোরু সহ গ্রেপ্তার করা হয় একজনকে। ফলে গোরুর হাটগুলিতে বিক্রি বন্ধ। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন ইদুজ্জোহার সময় গোরু কুরবানি দেন। শুধু মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রতিবছর হাজার হাজার গোরু কুরবানি হয়। সর্বাধিক সাতজন মিলে একটি গোরু কুরবানি দেওয়ার চল রয়েছে। এতে আর্থিকভাবে সাশ্রয় হয়। সেক্ষেত্রে পশু হত্যার সংখ্যাও কমে। কিন্তু, এ বছর পুরনো পশু হত্যা আইন কড়া ভাবে কার্যকর হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। অনেকেই গোরুর বদলে ছাগল কুরবানি দেওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু, ছাগলের দাম রাতারাতি চড়ে গিয়েছে। ফলে সমস্যা সর্বত্র।
শুধু যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন সমস্যায় আছেন, তা নয়। অনেক গোপালক গোরু পালন করে শুরুমাত্র কুরবানির কথা মাথায় রেখে। ঋণ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার গোরু কিনে মাস কয়েক পালন করে, তা দ্বিগুণ দামে অনেকে বিক্রি করতেন। এবার সেসব বন্ধ থাকায় তাঁরাও সমস্যায় পড়ছেন। বেলডাঙার এক গোপালক বলেন, ব্যাংক থেকে তিন লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে সাতটি গোরু কিনেছিলাম। তিন মাস ধরে সেগুলিকে পালন করছি। কুরবানির আগে গোরুগুলি ৭০-৮০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হত। কিন্তু, এবার গবাদি পশু আইন কার্যকর হতেই গোরু বিক্রি হচ্ছে না। আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি।