Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিক্ষার্থীদের হাতে সংগীত শিক্ষকের ‘গাছবোমা’

সংগীত শিক্ষার আড়ালে বাড়িতে তৈরি হচ্ছে ‘বোমা’। এক শিক্ষক নিজে হাতে তৈরি করছেন আর তা শিখছে ছাত্রছাত্রীরা।

শিক্ষার্থীদের হাতে সংগীত শিক্ষকের ‘গাছবোমা’
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: সংগীত শিক্ষার আড়ালে বাড়িতে তৈরি হচ্ছে ‘বোমা’। এক শিক্ষক নিজে হাতে তৈরি করছেন আর তা শিখছে ছাত্রছাত্রীরা। এইটুকু শুনলেই অবাক লাগে। তবে অবাক হওয়ার আরও বাকি রয়েছে। 

Advertisement

বোমা বানানো চলছে দীর্ঘদিন ধরে। পুলিস সবকিছু জেনেও চুপ। কারণ এই বোমা মানুষের মৃত্যু ঘটায় না। উল্টে জীবন বাঁচায়। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে মানিকতলা অঞ্চলে থাকেন গানের শিক্ষক দেবজ্যোতি আচার্য। তিনি স্কুলশিক্ষক। সংগীত শিক্ষক হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয়। মানিকতলার সব লোক জানেন, তাঁর বাড়িতে বোমা তৈরি হয়। তিনি ছাত্রছাত্রীদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণও দেন। পড়ুয়ারা তা বানিয়ে দেদার ‘বোম মারে।’ গত কয়েকদিনেই ছাত্রছাত্রীরা প্রায় ৫০টি জায়গায় বোমা ছুড়েছে। দেবজ্যোতিবাবু জানান, এই বোমা বারুদের তৈরি নয়। সুতলি দিয়ে বাঁধা বিস্ফোরক মোটেও নয়। ছুড়ে মারলে বিকট শব্দও করে না। ধোঁয়ায় ভরে না চারপাশ। এই বোমা উল্টে জগতের উপকার করে। কারণ তা তৈরি হয়েছে মাটি দিয়ে। ভিতরে বারুদের বদলে রয়েছে গাছের বীজ। দেবজ্যোতিবাবু ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে এই ‘বীজবোমা’ তৈরি করছেন। বোমার ভিতরে রয়েছে আম-কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ফলগাছের বীজ। ফাঁকা জমিতে ৫০টি বীজবোমা ছুড়েছে পড়ুয়ারা। দেবজ্যোতিবাবু বলেন, ‘আমাদের তৈরি বোমা কারও জীবন কেড়ে নেয় না। বরং জীবন দেয়।’ এখন ছাত্রছাত্রীরা চারপাশে বোমা ছুড়েছে। এরপর বর্ষার জল পড়ে বীজ থেকে বেরবে নতুন চারা। তারপর গাছ বড় হবে। অক্সিজেনের জোগান দেবে। পরিবেশ বাঁচাবে। প্রতিটি স্কুল বা শিক্ষাঙ্গন পড়ুয়াদের জন্য এই বোমা যদি তৈরি করে তাহলে পৃথিবী আরও সবুজ হয়ে উঠবে।’ গোপাল হালদার নামে এক ছাত্র বলে, ‘আমি বেশ কয়েকটি বোমা ছুড়েছি। আমাদের বীজবোমা পরিবেশ রক্ষা করছে।’ অদৃজা সরকার, পৃথা হালদার নামে দুই ছাত্রী বলে, ‘এটা পরিবেশ বাঁচানোর বোমা। প্রথমে আমাদের স্যার মাটি এনে দেন। তারপর বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের বীজ এনে দেন। আমরা যত্ন করে তা দিয়ে গাছবোমা বানাই। আর ছুটির পর ছুঁড়ি। দারুণ লাগে।’ 
বাসন্তী বিশ্বাস নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘একদম অন্যরকম ভাবনা। সবুজ বাঁচানোর এই প্রয়াস ছোটদের মনে ঢুকে যাচ্ছে। এই কাজ চলতে থাকলে পৃথিবী সুস্থ থাকবে। আমরাও সুস্থ থাকব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ