সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বাঙালির রান্নাঘরে এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাশরুম। চিকিৎসকদের মতে, মাশরুমে প্রচুর ফাইবার থাকে। এছাড়াও বিটা গ্লুকোন নামের এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার থাকায় এটি কোলেস্টেরলের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মাশরুমে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। এই মাশরুম চাষই এখন কর্মসংস্থানের দিশা দেখাচ্ছে উলুবেড়িয়া ১ নম্বর ব্লকের হাটগাছা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দাহুকা গ্রামকে। এই গ্রামে গত দেড় বছর ধরে মাশরুম চাষ করছেন হর্ষিত আগরওয়াল।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে রাষ্ট্রীয় কৃষি উন্নয়ন যোজনার আওতায় উদ্যানপালন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মাশরুম চাষ চলছে। মাশরুম চাষের এক একটি ইউনিট তৈরি করতে খরচ হয় ২০ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে ৪০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে পাওয়া যায়। মঙ্গলবার রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের আধিকারিকরা ওই মাশরুম চাষের কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে আধিকারিকরা বলেন, মাশরুম চাষ একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। অপেক্ষাকৃত কম জমিতে অধিক ফলন হয়। এই কেন্দ্রটি স্থানীয় কৃষকদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে সাহায্য করবে। আধিকারিকদের মতে, এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে আরও প্রসারিত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। যা আগামী দিনে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
হর্ষিত আগরওয়াল বলেন, প্রতিদিন এই কেন্দ্র থেকে গড়ে ১ কুইন্টাল মাশরুম উৎপন্ন হয়। এখানকার মাশরুম শিয়ালদহ, নিউমার্কেট ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। পাইকারি বাজারে ১৬০/১৭০ টাকা কেজি দরে মাশরুম বিক্রি হয়। ভালো বাজার আছে। বর্তমানে ছ’জন এই কেন্দ্রে কাজ করছেন। সরকারি সাহায্য পেলে আগামী দিনে এই উৎপাদন কেন্দ্রকে আরও বড় করার পরিকল্পনা
রয়েছে। কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভবনা আছে। -নিজস্ব চিত্র