সংবাদদাতা, লালবাগ: ঈদ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারও পর্যটকদের ঢল নামে সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলিতে। এদিন সকালে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী মালদহ, নদীয়া ও বীরভূম জেলা থেকে ট্রেন, বাস, ছোট গাড়িতে চেপে দলে দলে দর্শনার্থীরা লালবাগ এবং পার্শ্ববর্তী দর্শনীয় স্থানগুলিতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নবাবের শহরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ে রীতিমতো সরগরম ছিল লালবাগ। হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলা বাগান, মোতিঝিল প্রকৃতি তীর্থ, জগৎ শেঠের বাড়ি, নশিপুর রাজবাড়ি প্রভৃতি স্পটগুলিতে রীতিমতো মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। দর্শনার্থীদের ভিড়ে হাজারদুয়ারি এবং সংলগ্ন এলাকায় পা রাখা দায় হয়ে ওঠে। দর্শনীয় স্থানগুলির সংলগ্ন রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভিড় সামলাতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিসকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। কোনওপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের রাস্তায় নজরদারির পাশাপাশি ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে পুলিস মোতায়েন ছিল। ঈদ উপলক্ষ্যে সোমবারের পর মঙ্গলবারেও মুর্শিদাবাদে দর্শনার্থীদের ঢল নামায় মুখে চওড়া হাসি পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের মুখে। তাদের দাবি, আগামী আরও দু-তিন দিন প্রচুর সংখ্যায় মানুষের সমাগম হবে। তবে ঈদে টিকিট বিক্রির নিরিখে নবাবি স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হাজারদুয়ারিকে পিছনে ফেলেছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকৃতি তীর্থ মোতিঝিল। ঈদের প্রথম দিন সোমবার হাজারদুয়ারির কাউন্টার থেকে ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। সেখানে মোতিঝিলে টিকিট বিক্রির সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। মঙ্গলবার হাজারদুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি হয় ২০ হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে মোতিঝিলে ৩৫ হাজারের বেশি। লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, পর্যটকদের ভিড় সামলাতে শহরের রাস্তায় প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। অযথা যানজট এড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ পুরসভার পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি ট্যুরিস্ট সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের একটি ইঞ্জিন মজুত রাখা হয়েছে।



