Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঈদ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারও পর্যটকের ঢল নামল মুর্শিদাবাদের পর্যটনকেন্দ্রে

ঈদ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারও পর্যটকদের ঢল নামে সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলিতে।

ঈদ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারও পর্যটকের ঢল নামল মুর্শিদাবাদের পর্যটনকেন্দ্রে
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: ঈদ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবারও পর্যটকদের ঢল নামে সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলিতে। এদিন সকালে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রতিবেশী মালদহ, নদীয়া ও বীরভূম জেলা থেকে ট্রেন, বাস, ছোট গাড়িতে চেপে দলে দলে দর্শনার্থীরা লালবাগ এবং পার্শ্ববর্তী দর্শনীয় স্থানগুলিতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নবাবের শহরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ে রীতিমতো সরগরম ছিল লালবাগ। হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলা বাগান, মোতিঝিল প্রকৃতি তীর্থ, জগৎ শেঠের বাড়ি, নশিপুর রাজবাড়ি প্রভৃতি স্পটগুলিতে রীতিমতো মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। দর্শনার্থীদের ভিড়ে হাজারদুয়ারি এবং সংলগ্ন এলাকায় পা রাখা দায় হয়ে ওঠে। দর্শনীয় স্থানগুলির সংলগ্ন রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভিড় সামলাতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিসকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। কোনওপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের রাস্তায় নজরদারির পাশাপাশি ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে পুলিস মোতায়েন ছিল। ঈদ উপলক্ষ্যে সোমবারের পর মঙ্গলবারেও মুর্শিদাবাদে দর্শনার্থীদের ঢল নামায় মুখে চওড়া হাসি পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের মুখে। তাদের দাবি, আগামী আরও দু-তিন দিন প্রচুর সংখ্যায় মানুষের সমাগম হবে। তবে ঈদে টিকিট বিক্রির নিরিখে নবাবি স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হাজারদুয়ারিকে পিছনে ফেলেছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকৃতি তীর্থ মোতিঝিল। ঈদের প্রথম দিন সোমবার হাজারদুয়ারির কাউন্টার থেকে ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। সেখানে মোতিঝিলে টিকিট বিক্রির সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। মঙ্গলবার হাজারদুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি হয় ২০ হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে মোতিঝিলে ৩৫ হাজারের বেশি। লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, পর্যটকদের ভিড় সামলাতে শহরের রাস্তায় প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। অযথা যানজট এড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ  করে দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ পুরসভার পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি ট্যুরিস্ট সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের একটি ইঞ্জিন মজুত রাখা হয়েছে। 

Advertisement

চৈত্রের শুরু থেকেই তীব্র দাবদাহে মুর্শিদাবাদ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছিল। তবে ঈদের কয়েকটা দিন দর্শনীয় স্থানগুলিতে ব্যাপক ভিড়ের আশা করেছিলেন পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহল। প্রত্যাশা মতো পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে ঈদের দিন থেকে মানুষের ঢল নেমেছে দর্শনীয় স্থানগুলিতে। সাগরদিঘি ট্রেনে চেপে বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে লালবাগে ঘুরতে এসেছিল বছর পনেরোর আসিফ ইকবাল। আসিফ জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে প্রথমবার লালবাগ ঘুরতে এসেছি। সারাদিন ধরে ঘুরে, খাওয়াদাওয়া করে রাতের ট্রেনে বাড়ি ফিরব। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোতিঝিলে এসেছিলেন পলাশীর মাইনুল শেখ। মাইনুল বলেন, বছর দশেক আগে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলাম। এবার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে এসেছি। হাজারদুয়ারির গাইড পোখরাজ শেখ বলেন, প্রতিবছর ঈদের কয়েকটা দিন ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে ভালো ভিড় হয়। তবে প্রথমদিন অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের সংখ্যা বেশি ছিল। টাঙ্গাচালক সোহেল শেখ বলেন, প্রত্যাশার বেশি পর্যটক সমাগম হয়েছে। মোতিঝিলের কর্মী সিরাজুল শেখ বলেন, সকালের দিকে ভিড় হাজারদুয়ারি ও কাঠগোলাপ বাগানে ছিল। দুপুরের পর থেকে মোতিঝিলে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। মুর্শিদাবাদ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ঈদের পরের দিন থেকে ভিড় হয়। তবে এবার প্রথম দিন থেকেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এটা মুর্শিদাবাদের পর্যটনের ক্ষেত্রে ভালো দিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ