সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদজুড়ে জেলার বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির ও বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের আখড়গুলিতে মহা সমারোহে কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হল। শনিবার এই উৎসব উপলক্ষ্যে বহু মন্দির বাহারি রঙের আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। এদিন সকাল থেকেই বহু পরিবারে পুজোপাঠ, আরতি, নাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালিত হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বহরমপুর শহরে পাকা তাল কার্যত মহার্ঘ হয়ে উঠেছিল। মিষ্টির দোকানগুলিতে তালের বড়া, তালের লুচি, মালপোয়া, রাবরি দেদার বিক্রি হয়েছে।
এদিকে বিকেলে বহরমপুর শহরে শিশুদের কৃষ্ণের বেশে সাজিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন মা, বাবারা। এদিন মাটির থালায় শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদনের জন্য মাখন, মধু, নানা রকমের মিষ্টি সহ বিশেষ ভোগ কিনতে পুণ্যার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় কান্দি রাজ পরিবারের রাধাবল্লভ জিউ, জিয়াগঞ্জ রায়বাহাদুর বাড়ি, জেমো গোপাল টুঙির মন্দির, লালবাগে জগৎ শেঠের বাড়ি, বহরমপুরের গোপাল দাসের আখড়া, ভরতপুরে গোপীনাথের বাড়ি, নিমা গ্রামে গোপালের আশ্রমে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে পুণ্যার্থীদের ঢল উপচে পড়েছিল। কোনও কোনও মন্দিরে গভীর রাত পর্যন্ত চলে পুজোপাঠ। পুজো শেষে বহু মন্দিরে ভক্তদের ভোগপ্রসাদ খাওয়ানো হয়। কান্দির রাধাবল্লভ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত প্রশান্ত অধিকারী বলেন, জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে প্রাচীন এই মন্দিরে বিশেষ পুজো ও ভোগ নিবেদনের প্রথা চলে আসছে।
বহরমপুরে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের শ্যামরাই দেবঠাকুরের মন্দিরে জন্মাষ্টমী উৎসবের আয়োজন হয়েছিল। আবার নিমা গোপাল আশ্রমে এদিন সন্ধ্যা থেকেই পুজো ও নাম সংকীর্তন চলতে থাকে। নিমা গোপাল আশ্রমের এক ভক্ত বৈদ্যনাথ দে বলেন, গোপালের আশ্রমে নবম দোল আর জন্মাষ্টমী উৎসব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।
শনিবার বহরমপুরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি পিস পাকা তাল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিন সাইজ অনুপাতে বহরমপুরে ৫-১০ টাকা পিস হিসেবে তালের বড়া বিক্রি হয়েছে। তালের লুচি ৭ টাকা, মালপোয়া ১০ টাকা পিস হিসেবে বিকিয়েছে।
বহরমপুর শহরের মিষ্টি বিক্রেতা অরুণ দাস বলেন, শনিবার সকাল থেকে তালের বড়া, লুচি ও মালপোয়ার চাহিদা বেশি ছিল। দোকানে তালের বড়া মেলায় বহু পরিবার ঘরে রান্নার ঝঞ্জাটে না গিয়ে দোকান থেকেই কিনেছেন এসব।