Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি গিয়েছে, সঙ্গে দোসর হিংসা-অশান্তি, জোড়া চিন্তা নিয়ে পথে বসে মুর্শিদাবাদের শিক্ষকরা

চাকরি গিয়েছে, সঙ্গে দোসর হিংসা-অশান্তি, জোড়া চিন্তা নিয়ে পথে বসে মুর্শিদাবাদের শিক্ষকরা
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরি হারা যোগ্য শিক্ষকরা এখন ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান শুরু করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারাই অবস্থান করছেন। মুর্শিদাবাদ থেকে এসেছেন পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক পাভেল ইসলাম, অঙ্কের শিক্ষক জামান। এদিকে মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ বিল ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তাই পাভেল, জামানদের পরিবারের চিন্তার শেষ নেই। বারবার ফোন আসছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়ি যাওয়াও কঠিন বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। পাভেল-জামানরা বলেন, আমরা চাকরি হারিয়েছি। আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই। পাশাপাশি সরকারের উপর তাঁরা ভরসা রাখছেন বলেও জানালেন।

Advertisement

শনিবার দুপুরে গান্ধিমূর্তির পাদদেশে হাহাকারের চিত্র। সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কেউ ডুকরে কেঁদে উঠছেন। কেউ সন্তানকে নিয়ে বসে। পাভেল বলেন, বাড়ি থেকে ফোন করে সেখানকার পরিস্থিতি বলছে। বাড়ির ছেলে দূরে আছে, তাও আবার এরকম পরিস্থিতিতে, চিন্তা তো রয়েইছে। আমরাই বা কী করব বলুন? সকলে মিলে যে সিদ্ধান্ত হবে, তাই করব আমরা। দু’দিন আগে কলকাতায় এসেছেন তাঁরা। মুর্শিদাবাদ থেকে ১০-১২ জন শিক্ষক এসেছেন। জামা-কাপড় সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। অঙ্কের শিক্ষক জামানের বাড়ি সুতির কাছে। সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। জামান বলেন, আমাদের ওদিকে দোকান ভেঙে ফেলছে শুনছি। এখন চাইলেও বাড়ি যেতে পারব না। রাতের দিকে তো যাওয়াই যাবে না। সবমিলিয়ে মুর্শিদাবাদের শিক্ষকরা জোড়া সমস্যায় পড়েছেন।
সমস্যা বাড়ছে আন্দোলনরত চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যেও। শুক্রবার এসএসসির দপ্তরের সামনে থেকে অনেকে রাতে চলে গিয়েছিলেন। তাই তাঁদের অন্দরে অশান্তি শুরু হয়েছিল। এদিনও গান্ধিমূর্তির পাদদেশে অবস্থানে বসা শিক্ষক সংখ্যা কম। এক চাকরিহারা শিক্ষকের কথায়, আসলে অনেকের ধারনা আন্দোলনটাও দশটা-পাঁচটা সময়ের শিক্ষকতার মতো। আমরা চেষ্টা করছি সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে আসার জন্য। এমনকী চাকরিহারাদের পরিবারের লোকজনকেও যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ